Trending

Tuesday, 28 May 2019

ছুটির একটা দিন অরণ্যের মাঝে




ভারতের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন ,এ কথা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য কোনটা বলুন তো? অনেকের কাছে ই উত্তরটা অজানা। ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য ওড়িশা রাজ্যে কেন্দ্রপাড়া জেলায় চাঁদ বলির কাছে অবস্থিত। অরণ্যটির  নাম ভিতরকণিকা ।আজ আমরা জেনে নেব ঠিক কি কি আছে এই ভিতরকণিকা অরণ্যতে যা তাকে জাতীয় উদ্যানের স্বীকৃতি প্রদান করেছে।
পুরো ভিতরকণিকা অরণ্যকে ঘিরে রয়েছে চারটি নদী। ব্রাহ্মণী, বৈতরণী ,পাঠশালা এবং ধামরা। এই চারটি নদীর কূলে পরম নিশ্চিন্তে বিরাজ করছে ভিতরকণিকা অরণ্য। নদী গুলি মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। ভিতরকণিকা সবথেকে কাছে আছে গাহির্মাথা সমুদ্র সৈকত।

যেহেতু ভিতরকণিকা একটি ম্যানগ্রোভ অরণ্য তাই সুন্দরী, গরান ,গেওয়া ,হেতাল, গোলপাতা  এই সমস্ত গাছের সমারোহ অদ্ভুত সজীবতা বিরাজ করে এখানে। ৬৭২ বর্গকিলোমিটার আয়তন এই জঙ্গল টি র । ১৯৯৮ সালের ১৬ ই সেপ্টেম্বর এটি জাতীয় উদ্যানের স্বীকৃতি পায়। জাতীয় উদ্যানে বিভিন্ন প্রকৃতি বন্য পশুর বাস ,যেমন ভারতীয় অজগর ,গোখরো, কালো সারস, চিতল হরিণ, বুনো শুকর,বাঁদর এমন কি মাঝে মাঝে নেকড়ে ও দেখা যায়।


ভিতরকণিকা জঙ্গলে ভ্রমণ করতে হলে নৌকা পথে আসতে হয়। নদীর উপর দিয়ে বাইরে থেকে জঙ্গলের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে জঙ্গলে ঘাটে এসে পৌঁছাবেন আপনি। আসার পথে নদীর পাড়ে বিশ্রামরত কুমিরেরা আপনাকে স্বাগত জানাতে পারে। আবার অনেক সময় গাছের পাতা খেতে ব্যস্ত হরিণের দল কেও দেখতে পেয়ে যেতে পারেন। বিশেষ অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হয় দংমালে।

এরপর আপনার গন্তব্য হতেই পারে ভিতরকণিকা জাতীয় সংগ্রহশালা। এখানে বিভিন্ন ধরনের কুমির ও সাপ এবং বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপ এর দেহাবশেষ আছে। এরমধ্যে ২০০৬ সালে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে বড় কুমিরটির দেহাবশেষ এখানে আছে ,যার দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট এবং ওজন প্রায় আড়াই শ কেজির উপর।এরপর কুমির প্রজনন কেন্দ্র পরিভ্রমণ করে নিতে পারেন। ২০১৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী এখানে ৩০০০ টি কুমির জন্মেছে।

ভিতরকণিকা জঙ্গল ভ্রমণ আপনাকে সম্পূর্ণ অন্য ধারার এক ভ্রমণের আনন্দ দেবে। মনুষ্য প্রকৃতি থেকে অনেক দূরে বন্যপ্রাণীদের নিস্তরঙ্গ জীবন যাপন মনের মধ্যে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়। ছোট ছোট প্রাণীদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য, তাদের চারিত্রিক বৈচিত্র এবং তাদের অদ্ভুত কান্ড কারখানা বেশ আনন্দদায়ক ।তাই হাতে সময় থাকলে ভিতরকণিকা জঙ্গল একবার পরিভ্রমন করে আসতেই পারেন। 

No comments:

Post a comment