Trending

Thursday, 30 May 2019

অজানার সন্ধানে মৌসুনি দ্বীপে



বাঙালি ভ্রমণপিপাসু ‌। দু এক দিনের ছুটি পেলেই সে কোথাও বেরিয়ে পড়তে চায়। কিন্তু যেতে আসতেই তো অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়। তাই ইচ্ছে থাকলেও অনেক সময় ই বেড়ানোটা ঠিক হয়ে ওঠে না। আজকে আমরা খোঁজ দেবো এমন এক ঠিকানা র যেখানে যাওয়া আসার কোন অসুবিধাই নেই। দু দিনের ছুটি পেলে ই টুক করে বেরিয়ে আসা যায়।
আজ আমাদের গন্তব্য মৌসুনি দ্বীপ। 

বকখালির কাছে অবস্থিত এই দ্বীপটিকে অনেকে নিউ বকখালি ও বলে থাকেন। এখনো পর্যন্ত এই দ্বীপ সম্পর্কে তেমন জনসচেতনতা গড়ে ওঠেনি বলে লোকজনের ভিড় এখানে খুবই কম। আপনি যদি চান পরিবার নিয়ে নিরিবিলিতে প্রকৃতির মাঝে একটু সময় কাটাতে তাহলে আপনাকে স্বাগত জানাবে মৌসুনি দ্বীপ। 


এই দ্বীপটির বিশেষ আকর্ষণ হলো বঙ্গোপসাগর এবং গঙ্গার সঙ্গম স্থল। শুনশান এ সমুদ্র সৈকতে লোকজনের ভিড় প্রায় নেই বললেই চলে। গ্রামীণ মানুষদের সহজ সরল জীবনযাপন আপনাকে মুগ্ধ করবে। এই দ্বীপের আরো একটি বৈশিষ্ট্য হলো এখনো পর্যন্ত এখানে কোন হোটেল গড়ে ওঠেনি। তাই বলে এই নয় যে আপনাকে খোলা আকাশের নিচে রাত্রি বাস করতে হবে ‌।

 বলা যেতে পারে এটাই মৌসুনি দ্বীপ এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ যা পর্যটকদের ধীরে ধীরে আকৃষ্ট করছে, হ্যাঁ এখানকার থাকার ব্যবস্থা টাই এরকম। আপনাকে থাকতে হবে কোন একটি ক্যাম্পে। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১১ টি ক্যাম্প আছে এই দ্বীপে। আছে বিভিন্ন রকমের টেন্ট। ফ্যামিলি টেন্ট এ তিন থেকে চারজন থাকতে পারেন। 

অ্যাডভেঞ্চার টেন্ট এ দুজনের থাকার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া আছে বেশকিছু মাড কটেজ। সেখানেও দুই থেকে তিন জন থাকতে পারেন। গাইড এর সঙ্গে বেরিয়ে পড়তে পারেন রাতের সমুদ্র সৈকত দেখতে। আর ঘুরতে যেতে ভালো না লাগলে ক্যাম্প ফায়ার তো আছেই।

এবার মনে প্রশ্ন জাগছে তো কি করে যাবেন মৌসুনি দ্বীপ? খুবই সহজ, শিয়ালদা থেকে নামখানা লোকাল নামখানা স্টেশন, তারপর সেখান থেকে একটি টোটো নিয়ে চলে যান নামখানা বাস স্ট্যান্ড। সেখান থেকে একটি ম্যাজিক কার নিয়ে চলে আসুন দক্ষিণ বাগডাঙ্গা ফেরিঘাটে। নৌকোয় করে নদী পার হয়ে টোটো ধরে চলে আসুন আপনার গন্তব্য মৌসুনি দ্বীপ। কলকাতা থেকে এর দূরত্ব মাত্র একশো কুড়ি কিলোমিটার। নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে বা পরিবার নিয়ে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে হলে মৌসুনি দ্বীপ আদর্শ স্থান।

No comments:

Post a comment