Trending

Saturday, 4 May 2019

স্বয়ং শিব ঠাকুরের আদালত!




কলকাতার আছেই এমন এক জায়গা আছে যা বিখ্যাত শিব ঠাকুরের আদালত হিসেবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাখেরহাট অঞ্চলে আছে বড়ো কাছারি মন্দির যা শিব ঠাকুরের নিবেদিত এক মন্দির ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম বড়ো তীর্থ ক্ষেত্র। প্রতিবছর কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে এই মন্দিরে। বড়ো কাছারি শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো বড়ো আদালত। কিন্তু কি ভাবে এলো এই নাম বা এর পিছনে লুকানো ইতিহাসটাই বা কি? আসুন দেখে নি।

শোনা যায় নবাবা আলীর্বদি খানের শাসনকালের শেষ সময়ে মারাঠা বর্গিরা আক্রমণ করেছিল বাংলায়, গ্রামের পর গ্রামে লুঠ চালিয়েছিল এইসব বর্গিরা। গ্রামের মানুষের ভীত ছিল এই বর্গিদের থেকে বর্ধিষ্ণু গ্রাম বাখেরহাটের মানুষ ও তটস্থ ছিল এদের জন্য তারা তখন কাছের এক শশ্মানে আশ্রয় নেয় বর্গিরা রাতে লুঠ করতে আসতো এবং তারা হিন্দু সম্প্রদায় ভুক্ত হওয়ার জন্য ভূতের ভয়ে এই শশ্মানে প্রবেশ করতে পারে নি। এইভাবেই রক্ষা পায় বাখেরহাট গ্রামের মানুষজন দের প্রাণ ও ধনসম্পদ।





এর কিছু বছর পর সেই গ্রামে আসেন এই সাধু তিনি অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে গ্রামবাসীর মঙ্গল করেন উনি গ্রামের অনেক বাসিন্দা দের রোগের হাত থেকে রক্ষা করেন। তার মৃত্যুর পর গ্রামবাসীরা তাকে সমাধিস্থ করেন কিন্তু তারপর সেই সমাধি থেকে জন্ম নেয় এক অশত্থ গাছ, গ্রাম বাসীদের রক্ষা করার জন্য সেই সাধু আবার ফিরে এসেছেন এমন ধারনা হয় সকলের ক্রমে সবাই সেই গাছের পূজা শুরু করে দেয়। এরপর ১৯৭৮ সালের বন্যায় গাছ টি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তারপর এলাকার বাসিন্দা রা আরেকটি নতুন গাছ লাগিয়ে তার নীচে একটি শিবের মন্দির স্থাপন করে দেয়। ক্রমেই লোক মুখে এই ঘটনা প্রচারিত হতে থাকে এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার সবচেয়ে বড়ো শৈব তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয় বড়োকাছারি।

পথনির্দেশ :- দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর থেকে বাসে করে পৌছে যাবেন গ্রাম বাখেরহাটে। কলকাতা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ২০ কিমি। এখানে গিয়ে আপনিও জানিয়ে আসতে পারেন আপনার আর্জি বাবা বড়োকাছারির কাছে।

No comments:

Post a comment