Trending

Monday, 13 May 2019

২১ শে জুলাই এর কিছু গোপন কথা





"একুশে জুলাই" এই দিনটি সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের সকলেই এখন অবগত। তৃণমূল এ দিনটিকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে।কিন্তু আজ থেকে ২৫ বছর আগে একুশে জুলাইএ ঠিক কি হয়েছিল? প্রথমেই বলে রাখা ভাল দিনটি তৃণমূলের শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হলেও, ১৯৯৩ সালের ২১ শে জুলাই তৃণমূল নামক কোন দল পশ্চিমবঙ্গের বুকে ছিল না। আন্দোলন হয়েছিল যুব কংগ্রেসের পতাকার তলায়। ১২ জন পুলিশের গুলিতে মারা যান এবং একজন মারা যান সিরোসিস অফ লিভারে। এরা প্রত্যেকেই ছিলেন কংগ্রেসের সমর্থক। কাজেই তৃণমূলের তরফ থেকে যে অনুষ্ঠান পালন করা হয়, তা মূলত কংগ্রেসের থেকে দখল করা একটি বিশেষ দিন।




কি কারনে  ১৯৯৩ সালের ২১ শে জুলাই মহাকরণ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। মূল দাবি ছিল নির্বাচনে সচিত্র ভোটার কার্ড কে আবশ্যিক করতে হবে। কিন্তু নির্বাচনের কোনো ভোটার কার্ড এর দায়িত্ব সরকার বা রাজ্য সরকারের থাকে না। এই পুরো দায়িত্ব টাই নির্বাচন কমিশনের। তাই এই দাবিতে নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও না করে, মহাকরণ কেন ঘেরা করা হয়েছিল সেটা আজও রহস্য।
১৯৯৩ সালের ২১ শে জুলাই যুব কংগ্রেসের ডাকে যে আন্দোলন করা হয়েছিল তাতে সেই সময়কার প্রদেশ কংগ্রেসের কোন সমর্থন ছিল না। এমনকি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও এই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল। অনেকে মনে করেন ১৯৯২ সালে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির সোমেন মিত্রর কাছে হেরে যায়। এবং তিনি দলের মধ্যে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এই সময় নিজের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য এই আন্দোলন ছিল তার কাছে একমাত্র খোলা পথ। ১৯৯৩ সালের ২১ শে জুলাই যেদিন এই ঘটনা ঘটেছিল,সেদিন জ্যোতি বসুর সরকার ছিল রাজ্যে। এই সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব ছিলেন মণীশ গুপ্ত যিনি বর্তমানে তৃণমূলের একজন মন্ত্রী। তৃণমূলের নিচু স্তরের বিভিন্ন কর্মীদের এটা মানতে খুবই অসুবিধা হয় যে ,যে সরকারের জন্য সেদিন ১৩ জনের প্রাণ গিয়েছিল সেই সরকারের যিনি স্বরাষ্ট্র সচিব ছিলেন, তিনি বর্তমানে তৃণমূলের একজন মন্ত্রী। মণীশ গুপ্ত তার হলফনামায় জানিয়েছিল "সেদিন তিনটে বাস পোড়ানো হয়েছিল,৩৫ টি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছিল সব মিলিয়ে জখম হয়েছিল ২১৫ জন পুলিশ। তাদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ৭ জন ডি সি, ১০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার রয়েছে। ৩৪ জন পুলিশ কে চিকিৎসার জন্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পুলিশ হসপিটালে। তাদের অনেকেরই  পাইপ গানের গুলি এবং বোমার স্প্লিন্টার লেগেছিল। তালতলা থানার সার্জেন্ট ডি. কে ঘোষালেরও গুলি লেগেছিল। এক সাব-ইন্সপেক্টর কালাচাঁদ সমাদ্দারের শরীরে বোমার আঘাত লেগেছিল। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাব ইন্সপেক্টর এ .কে গাঙ্গুলীকে এসএসকেএম হসপিটালের সামনে মাথা ফাটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা।" 




পুলিশ আক্রান্ত এবং রক্তাক্ত হয়েছিল তাই গুলি চালিয়েছিল অর্থাৎ মণীশ গুপ্ত পুলিশের এই গুলি চালানো কে ন্যায্য বলে দাবি করেন এই বয়ানে। বিধাতার কি করুন পরিহাস সেই মণীশ গুপ্ত এই এখন তৃণমূলের একজন মন্ত্রী।

No comments:

Post a comment