Trending

Sunday, 19 May 2019

পাতালপুরীর গহ্বরে




মাটির উপরে ঘোরাঘুরি তো অনেক হল ,এবার যাই মাটির নীচে। মাটির নিচে না বলে নদীর নিচে বলাই ভালো। 2009 সাল শুরু হলো ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো ফেস 1 এর কাজ। 2010 সালে ফেস 2 কাজ শুরু করলো। কিন্তু এই কাজ গতি পেল 2017 সালে। জার্মান প্রযুক্তিতে জার্মান সংস্থা হেরেনাঘাট তৈরি করল 90 মিটার লম্বা টানে ল। 2017 সালের 14 ই এপ্রিল হাওড়া থেকে কলকাতা টানেল করা শুরু করল বোরিং মেশিন রচনা। 36 তিনি সে তার কাজ সমাপ্ত করল।




এরপর 2017 সালের 26 শে মে দ্বিতীয় টানেল করা শুরু হল ।কাজে এগিয়ে এলো বোরিং মেশিন প্রেরণা। গঙ্গা নদী প্রায় 30 মিটার নীচে দিয়ে সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়েছে। গঙ্গা নদীর প্রায় 30 মিটার নীচ দিয়ে সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়েছে ।এই সুড়ঙ্গের বাইরের পরিধি 6.1 মিটার এবং ভিতরে পরিধি 5 . 55 মিটার‌।




কাজ চলাকালীন শ্রমিকদের প্রতি কর্তৃপক্ষ খুব সুন্দর ব্যবস্থা রেখেছিল। প্রত্যেক শ্রমিকের শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করা থেকে শুরু করে তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমিয়েছে কিনা তাদের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কিনা সমস্ত কিছু পর্যবেক্ষণ করা হতো। একশো কুড়ি জনের একটি ইঞ্জিনিয়ার টিম ছিল 3 টি সিফটে  কাজ করার জন্য।




খেয়াল রাখা হতো বাতাসে অক্সিজেন কোন ভাবে যেন কুড়ি শতাংশের কম না হয়। হঠাৎ করে কোনো শ্রমিক অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে বাইরে নিয়ে আসার জন্য ম্যান ক্যারিয়ারের ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া চিকিৎসক , অ্যাম্বুলেন্স  তো ছিলই ‌।অতিরিক্ত জল পাম্পিং স্টেশন দিয়ে বের করার বন্দোবস্ত ছিল দেখার মতো।




গঙ্গার নিচে এই সুরঙ্গ টির দৈর্ঘ্য পাঁচশ কুড়ি মিটার। অত্যাধুনিক জল লিকেজ সিস্টেম, ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা, আপদ কালীন অবস্থায় এক টানেল থেকে অন্য টানেলে যাওয়ার বন্দোবস্ত এবং যদি কখনো কোনো বিপদ হয় তাহলে যাত্রীরা যাতে পায়ে হেঁটে নিকটবর্তী স্টেশনে পৌঁছাতে পারে সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে ‌। নদীর নিচে রেল চলাচলের বন্দোবস্ত পৃথিবীর অন্য শহরে থাকলেও আমাদের শহর তথা আমাদের দেশে এটি প্রথম। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সুরক্ষিতভাবে সুরঙ্গ কে নির্মাণ করা হয়েছে কলকাতা তথা দেশবাসীকে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো উপহার দেওয়ার জন্য ‌। এটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা শহরের মুকুটে আরো একটি পালক যুক্ত হলো। শহরের রানী কলকাতা আরো একটি দর্শনীয় স্থান পেল অবশ্য দর্শনীয় না বলে একটি ভ্রমণের স্থান বলাই ভালো।

No comments:

Post a comment