Trending

Wednesday, 29 May 2019

কথা কও ইতিহাস


মানুষ বরাবরই নতুন কিছুর সন্ধানে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চায়। আর এই নতুনের অন্বেষণ তাকে কোথায় কোথায় না নিয়ে যায়, কিন্তু ঘরের কাছে যে নিদর্শন রয়েছে সেটি তো চোখ এড়িয়েই যায় ‌। আজ তেমনই একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন সমন্বিত স্থানের কথা বলব যেখানে পৌঁছে যাওয়া খুব সহজ। 



বর্তমান সময়ের জটিল জনজীবন থেকে পিছিয়ে নিজেকে কয়েক যুগ আগে মৌর্য ,গুপ্ত যুগে আবিষ্কার করতে চাইলে পৌঁছে যেতেই হবে চন্দ্রকেতুগড়ে । রাজা চন্দ্রকেতু নির্মিত গড় থেকে এই স্থানের নাম হয়েছে চন্দ্রকেতুগড় ।বেড়াচাপার দেগঙ্গায় অবস্থিত  চন্দ্রকেতুগড় প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ দর্শন করায়। মাটি খুঁড়ে প্রাপ্ত জিনিস গুলোর মধ্যে অধিকাংশই পোড়া মাটির জিনিস কিন্তু সে পোড়া মাটির জিনিস গুলির বয়স শুনলে অবাক হতেই হয়। 



প্রাক মৌর্য যুগের মৃৎপাত্র থেকে শুরু করে গুপ্ত যুগের মুদ্রা কুষাণ যুগের লতাপাতা আঁকা বাসন-কোসন এবং গুপ্ত পরবর্তী যুগের ধাতব বাসন-কোসন এখানে দেখতে পাওয়া যায়। আরো আশ্চর্যের বিষয় এখানে প্রাপ্ত কিছু মৃৎপাত্রের সঙ্গে মহেঞ্জোদারোরর মৃৎপাত্রের মিল আছে। একসময়় বাংলার বিখ্যাত মসলিন এখানকার বন্দর থেকে পশ্চিমে রপ্তানি করা হতো। এ অঞ্চলটি অতি প্রাচীন। প্রাক মৌর্য আমল  থেকে এখানে স্থাপত্য ভাস্কর্য চর্চা চলত। 



পরবর্তীকালে হিন্দু রাজা চন্দ্রকেতু এখানে একটি গড় নির্মাণ করার পর থেকে তার নামানুসারে স্থানটির নাম হয় চন্দ্রকেতুগড়। দেগঙ্গার এই ঐতিহাসিক স্থানটি অযত্নে অনাদরে কালের প্রবাহে বয়ে চলছিল। স্বনামধন্য ঐতিহাসিক দিলীপ কুমার মিত্র সম্পূর্ণ নিজ প্রচেষ্টায় নিদর্শনগুলি সংগ্রহ করেন এবং নিজ বাড়িতেই একটি সংগ্রহশালা তৈরি করেন।



সে সময় তিনি সরকারি সাহায্য পাননি ঠিকই তবে বর্তমানে দেগঙ্গায় সড়কের পাশে অনেকটি স্থান জুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে চন্দ্রকেতুগড় সংগ্রহশালা ‌। দীলিপ বাবুর সংগ্রহে থাকা নিদর্শনগুলো এখানে স্থান পেয়েছে ‌। এছাড়া যে স্থানগুলি এখানে দর্শনীয় সেগুলি হল খনা ও মিহিরের ঢিপি, বৌদ্ধ স্তুপ, প্রচুর বৌদ্ধ মূর্তি, প্রেম গোরাচাঁদের অসমাপ্ত মসজিদ, টেরাকোটার সিঁড়ি এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চন্দ্রকেতুগড় এর ধ্বংসাবশেষ।



এখানে কোন হোটেল বা গেস্ট হাউস নেই। তাই গিয়েই ফিরে আসতে হবে। তবে কলকাতা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৫০ কিলোমিটার, যেতে সময় লাগে মাত্র ২ ঘন্টা। সড়ক পথে যেতে চাইলে ধর্মতলা বা বারাসাত থেকে যাওয়া যেতে পারে। চট করে একটু ইতিহাস থেকে নিজেকে ঘুরিয়ে আনতে চাইলে চলে আসুন চন্দ্রকেতুগড়ে।

No comments:

Post a comment