Trending

Wednesday, 15 May 2019

চলো যাই গ্রীষ্মকালীন অবসরে ভূস্বর্গের বাহুডোরে




প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা তার সমুদ্র সৈকত দিয়ে বরাবরই আমাদের আকর্ষণ করেছে। পুরীর সমুদ্রের উথাল পাথাল ঢেউ প্রতিবছর কয়েক লক্ষ পর্যটককে চুম্বকের মত আকর্ষণ করে নিয়ে আসে। কিন্তু আজ আমাদের গন্তব্য পুরি নয়, ওড়িশার কন্দমল জেলায় অবস্থিত দারিংবাড়ি। স্থানটি উড়িষ্যার কাশ্মীর নামে পরিচিত।



 কথিত আছে পাহাড়ে জঙ্গলে ঘেরা এই অঞ্চলটিতে এক ইংরেজ সাহেব ছুটি কাটাতে আসতেন। তার নাম দারিং সাহেব। ধীরে ধীরে জায়গাটি তার এত পছন্দ হয়ে গেল যে তিনি বারবার প্রকৃতির টানে ফিরে এসেছিলেন পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা ছোট্ট জনপদে‌। তবে আজকের  দারিংবাড়ি অনেকটাই পরিণত।



পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু হোটেল ও গেস্ট হাউস তৈরি হয়েছে। অঞ্চলটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০০ ফিট উঁচু। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দারিং বাড়িতে পর্যটকদের ভিড় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।



কয়েকটি বিশেষ স্থান এই অঞ্চলটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে সেগুলো হলো- হিলভিউ পার্ক, কফি বাগিচা (দক্ষিণ ভারত ছাড়া একমাত্র এই স্থানে আপনি অসংখ্য কফি বাগিচা দেখতে পাবেন। ঠিক যেমন আমরা দার্জিলিঙে গিয়ে চা বাগান পরিদর্শন করি), মরু বান্দা জলপ্রপাত, দুলুরি নদী, অসম্ভব সুন্দর পুতুদি  জলপ্রপাত, বেলঘর অভয়ারণ্য এবং আছে অতি আকর্ষণীয় লাভারস পয়েন্ট।



দারিংবাড়ি আসতে হলে হাওড়া চেন্নাই মেল ধরে উড়িষ্যার ব্রহ্মপুর স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে সড়ক পথে ১৪০ কিলোমিটার পাড়ি দিলেই চোখে পড়বে ছোট ভূস্বর্গ কে। ব্রহ্মপুর স্টেশন থেকে দারিংবাড়ি দূরত্ব তিন ঘন্টার মত।



গ্রীষ্মের ছুটিতে সমুদ্র সৈকতে না গিয়ে আপনি যদি চান কাছাকাছি কোথাও পাহাড়ি ঝর্ণায় নিজেকে ভিজিয়ে আনবেন, এমু পাখির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাবেন, কাশ্মীরে না গিয়েও কাশ্মীরের সৌন্দর্য উপভোগ করবেন তাহলে দারিংবাড়ি আপনাকে আসতেই হবে। ঘরের কাছে এমন পাহাড়ে ঘেরা ঝরনা এবং রহস্যময় তায় ভরা জঙ্গল থাকতে আর কি ঘরে থাকতে মন চায়

No comments:

Post a comment