Trending

Saturday, 18 May 2019

রাজবাড়ীর অন্দরে কোন ইতিহাস কথা বলে?





রাজার গল্প শুনতে কে না ভালোবাসে? আর সে রাজা যদি হয় সত্যিকারে রাজা! আজ আমরা এমনই এক রাজার গল্প শুনবো। জেনে নেব কোথায় গেলে দেখতে পাওয়া যাবে সেই রাজার পুরনো এবং নতুন বাড়ি। ‌




রাজবাড়ী সন্ধানে আমরা চলেছি গাদিয়াড়া। গাদিয়াড়ায় রুপনারায়ন এবং হুগলি নদীর সঙ্গম দেখা যায় ‌। ভীষণ সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, গ্রাম্য জীবন যাত্রা স্বাগত জানায় পর্যটককে। 




গাদিয়ারা থেকে লঞ্চে করে ওপারে এসে টোটো নিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় মহিষাদল রাজবাড়ি তে। লঞ্চঘাট থেকে রাজবাড়ী দূরত্ব মাত্র বারো কিলোমিটার। 




1934 সালে রাজা জনার্দন উপাধ্যায় নির্মাণ করেছিলেন ফুলবাগান প্যালেস। জনার্দন উপাধ্যায় মুঘল সম্রাট আকবর এর অধীনে উচ্চপদস্থ কর্মচারী ছিলেন। 




অষ্টাদশ শতকে ব্যবসায়িক কারণে তিনি গেঁওখালি আসেন। সেই সময় এখানকার রাজা ছিলেন কল্যাণ রায় চৌধুরী। রাজধানী ছিল গড়ঘুমাই। জনার্দন উপাধ্যায় রাজা কল্যাণ রায় চৌধুরীর থেকে মহিষাদল এর স্বত্ব কিনে রাজা হন ।




তারপরে তিনি ফুলবাগান প্যালেস নির্মাণ করেন। টিকিট কেটে ফুল বাগান প্যালেস এর একতলা পরিভ্রমণ করা যায় আর দোতালায় থাকেন রাজার বংশধরেরা। একতলায় রাজাদের আবক্ষ মূর্তি থেকে শুরু করে প্রচুর আসবাবপত্র, রাজাদের ব্যবহৃত জিনিস, মূর্তি এবং আছে একটি সুন্দর সংগ্রহশালা। রাজবাড়ী পিছন দিকে পরীখা ঘেরা। বিশাল জলাশয় আর আম বাগান পেরিয়ে আছে গোপালজীর মন্দির। আরারামবাগে রয়েছে রামজীর মন্দির।




সেগুলি পেরিয়ে যেতে হবে রঙ্গিন সন রাজবাড়ী। এটি পুরনো রাজার রাজবাড়ি। আনুমানিক 1840 সালে এই রাজবাড়ি নির্মাণ হয়। বর্তমানে এর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তত্ত্বাবধানে সংস্কার কাজ চলছে। এই মন্দিরের আটচালা তেই দুর্গাপূজা হয়।




গাদিয়াড়া যেতে হলে হাওড়া থেকে মেদিনীপুর লোকাল ধরে নামতে হবে বাগনান স্টেশনে। সেখান থেকে শ্যামপুর বাসে করে এসে পৌছে যেতে হবে গাদিয়াড়া। শ্যামপুর থেকে গাদিয়াড়া দূরত্ব মাত্র 8 কিলোমিটার। আর যদি কেউ সড়ক পথে আসতে চান তাহলে উলুবেরিয়া হয়ে হাই রোড ধরে আসতে হবে।
নিজস্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রাচীন রাজবাড়ীর ইতিহাস এবং প্রাচীন রাজাদের স্মৃতিসৌধের সঙ্গে রাজ বাড়ির বংশধর দের বর্তমান জীবন যাপন পদ্ধতির এক অদ্ভুত মিশেল এখানে আপনি দেখতে পাবেন।

No comments:

Post a comment