Trending

Tuesday, 14 May 2019

জঙ্গলে সদা জাগ্রত মা






বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর। দূর্গাপুর কে শিল্পাঞ্চল হিসেবে আমরা সকলেই চিনি। কিন্তু এই দুর্গাপুরের ই খুব কাছে ঘন জঙ্গলের মধ্যে বিরাজ করছেন মা শ্যাম রুপা। তার কথা আমরা হয়তো অনেকেই জানি না। আজ থেকে প্রায় হাজার বছর আগে সেন বংশের স্বনামধন্য রাজা লক্ষণ সেন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাতৃ মন্দির। মন্দিরের নাম গড় জঙ্গল। এই মন্দির সম্পর্কে অনেক লোক কথা প্রচলিত আছে।




লোকমুখে শোনা যায় মহাষ্টমীর দিন জঙ্গলের একটি সুরঙ্গ থেকে আওয়াজ বের হতে থাকে, ঠিক তারপরেই শুরু হয় বলিদান। এই মন্দিরের মাহাত্ম্য এতটাই যে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ প্রতিকূল পথ অতিক্রম করে মাতৃ দর্শনে আসেন। মন্দিরে নিত্য সেবা হয়। প্রত্যেকদিন মানুষের ঢল নামে মন্দির প্রাঙ্গণে। 




তবে দুর্গাপূজার সময় সংখ্যাটা এক লক্ষের কাছাকাছি পৌছে যায়। নবমীর দিন মন্দির প্রাঙ্গণে খিচুড়ি ভোগ খাওয়ানো হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় প্রচুর সংখ্যক পুলিশ। মন্দির এর আগে জীর্ণ অবস্থা থাকলেও সরকারি প্রশাসনের সহায়তায় এখন মন্দিরটিকে সাজানো হয়েছে। সরকারি সহযোগিতায় বসেছে জলের ট্যাঙ্ক, ডাস্টবিন। মন্দিরের চারপাশ ঘেরা হয়েছে সুদৃশ্য পাঁচিলে। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা পার করে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা গেছে।




গড় জঙ্গল মন্দিরটি দুর্গাপুর মালান্দিঘি থেকে তিন কিলোমিটার ভিতরে। সেখানে লাল মাটির পথ দু পাশে ঘন জঙ্গল। সেই পথ  দিয়ে আরো চার কিলোমিটার ভিতরে এই মাতৃ মন্দির। মন্দিরের পাশে আছে মহর্ষি সেবাশ্রম। সেখানে ও প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়। কংক্রিটের জঙ্গলে মোরা মেকি শহুরে সভ্যতা থেকে খানিকটা দূরে নিসর্গ প্রকৃতির কোলে শান্ত পরিবেশে মা শ্যাম রুপা পূজিতা হন। ব্রাহ্মণ্য ধর্মের উপাসক রাজা লক্ষণ সেন মাতৃ আদেশে ই স্থাপন করেছিলেন এই মন্দির। সেদিন থেকে আজও কল্যাণময়ী মা অসংখ্য ভক্তের কাছে পূজিতা হয়ে আসছেন। প্রাচীন শহর বর্ধমানের এই মন্দিরটি ইতিহাসের একটি যোগসূত্র যা অতীতে র সঙ্গে বর্তমানে র মেলবন্ধন ঘটিয়েছে।


No comments:

Post a comment