Trending

Sunday, 19 May 2019

যেখানে ঘুমিয়ে আছে বাংলার ইতিহাস




তদানীন্তন বাংলার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদ। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তখন সবে থাবা বসিয়েছে বাংলার উপর। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের ষড়যন্ত্রে অকাল মৃত্যুবরণ করেছেন।



নবাব পদে আসীন হলেন চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর ‌। এমনই আরো অনেক বিশ্বস্ততা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনী লুকিয়ে আছে মুর্শিদাবাদের আনাচে-কানাচে। আর নবাবী আমলের অনেক না বলা কথা, যন্ত্রণা বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাজারদুয়ারি প্রাসাদ ‌‌।



হাজারদুয়ারি প্রাসাদ কে নির্মাণ করেছিলেন মীরজাফরের বংশধর নবাব হুমায়ূন। 1829 সালে এই প্রাসাদ বানানো শুরু হয় আর 1837 সালে এটি শেষ হয় ‌। হাজারদুয়ারি প্রাসাদ 424 ফুট লম্বা 200 ফুট চওড়া এর উচ্চতা 80 ফুট। প্রাসাদে ওঠার আগে পার হতে হবে 37 টি সিঁড়ি। এই প্রাসাদের নাম হাজারদুয়ারি হওয়ার কারণ এই প্রাসাদে 1000 টি দরজা আছে। এর মধ্যে 900 টি আসল এবং 100 টি নকল তবে স্থাপত্য কলার গুনে আসল আর নকল চেনার উপায় নেই ‌।



নবাবী আমলে হাজারদুয়ারি প্রাসাদ টি নবাবের দপ্তর এবং ইংরেজদের অতিথিশালা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে 1869 সালে নবাব পদের বিলুপ্তির পর হাজারদুয়ারি প্রাসাদ দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। অবশেষে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ  প্রাসাদটি অধিগ্রহণ করে এবং একটি মিউজিয়াম চালু করে ‌। সমগ্র প্রাসাদটি তিনতলা তবে দর্শনার্থীরা একতলা এবং দোতালায় প্রবেশের ছাড়পত্র পান।



এই প্রাসাদের একতলায় আছে বিশাল মিউজিয়াম, মহাকোষ খানা ,অস্ত্রাগার এবং বিভিন্ন অফিস ‌। অস্ত্রাগারে 2700টি অস্ত্র আছে। দোতালায় আছে দরবার, ডাইনিং রুম, আর্ট গ্যালারি, দেওয়ান গ্যালারি  ইত্যাদি। দোতালায় নবাবের সিংহাসন এবং রানী ভিক্টোরিয়ার দেওয়া একটি সুবিশাল ঝাড়বাতি রয়েছে।



তিন তলায় রয়েছে রাজ কক্ষ, অতিথি কক্ষ, নবাবের শোবার ঘর ‌। হাজারদুয়ারির গ্রন্থাগারে 10783 বই আছে। এবং পুথির সংখ্যা প্রায় 3991। সমগ্র পৃথিবী থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসেন ভারতীয় ইতিহাস সম্পর্কে পড়াশোনা করার জন্য ‌। হাজারদুয়ারীর সামনে রয়েছে ইমামবাড়া। প্রতিবছর মহরম মাসে 1 থেকে 10 তারিখ অব্দি এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।



তবে এখনো হাজারদুয়ারির অনেক স্থাপত্য নিদর্শন যথাযথ যত্ন এবং মর্যাদা পায়নি। নবাবী আমলের জৌলুশে র সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজ শাসনের ক্ষতবিক্ষত চিহ্ন হাজারদুয়ারির আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে যা মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে।

No comments:

Post a comment