Trending

Wednesday, 8 May 2019

তন্ত্রক্ষেত্র কামরূপ কামাখ্যার ইতিহাস




আসাম রাজ্যের কামাখ্যা মন্দির হিন্দুদের ৫১ সতীপীঠের একটি। তন্ত্র সাধনার মূল কেন্দ্র এই নীলাচল পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত যাদু নগরী। কামাখ্যায় বাস অগণিত সিদ্ধ তান্ত্রিকের এটি হিন্দুদের কাছে এক মায়া নগরী তা এই কামরূপ কামাখ্যার পিছনে কেমন ইতিহাস লুকিয়ে আছে? কি করেই বা এটি হয়ে উঠলো তন্ত্র ক্ষেত্র আসুন জেনে নিই।

বর্তমান কামাখ্যা মন্দিরের নির্মাণ হয় ১৫৬৩-৬৪ সালে কিন্তু এর অনেক আগেই এখানে পূজিতা হন দেবী কামাখ্যা মতানুসারে ৩৫০-৬৪৫ খ্রীঃ এই অঞ্চল কামরূপ রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল তখন এখানে মূলত ব্যাধ বা শিকারি উপজাতির আরাধ্যা দেবী রূপে পূজিতা হতো দেবী কামাখ্যা। কথিত আছে কোচ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বসিংহ এই মন্দির পুনঃনির্মাণ করেন ও তার পুত্র নরনারায়ণ ১৫৬৫ সালে মন্দিরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। এরপরে অহম রাজবংশের আমলে এই মন্দির আরোও সমৃদ্ধ হয়।

জনশ্রুতি অনুযায়ী সুলেমান কেরানির রাজত্বকালে তার সেনাপতি কালাপাহাড় বাংলার অন্যান্য মন্দিরের মতো এই মন্দির ও ধ্বংস করেন যদিও অনেকে বলেন আলাউদ্দিন হুসেন শাহ কামতা রাজ্য আক্রমণ কালে এই মন্দির ধ্বংস হয়। অহম রাজা জয়ধ্বজ সিংহ ১৬৫৮ সালে এই মন্দির কে পুনঃনির্মাণ করেন।

কামাখ্যা কে বলা হয় যাদুটোনা, তন্ত্রসাধনার পীঠস্থান এখানে নাকি ভূত,প্রেতে,ডাকিনী,যোগিনী দের দেখা মেলা যায়। গুয়াহাটির কাছেই নীলাচল পর্বতের ৮০০ ফুট উপরে এই মন্দির অবস্থিত। এই মন্দির কে দশ মহাবিদ্যার মন্দির বলা হয়ে থাকে এখানের অধিষ্ঠাত্রী দশ দেবী হলেন ভূবনেশ্বরী, ছিন্নমস্তা, মাতসী, ভৈরবী, তারা, বগলামূখী, কালি, কমলা, ধূমাবতী ও ত্রিপুরেশ্বরী। যদিও এখানকার প্রধান পূজিতা দেবী হলেন দেবী কামাখ্যা। মূলমন্দিরের তিন প্রকোষ্ঠ আছে গর্ভগৃহের শেষে সিঁড়ির শেষ ধাপে যোনির আকৃতির পাথরের ফাটলের মধ্য দিয়ে অবিরাম জলধারা বয়ে চলে। এই মন্দির কে নিয়ে অনেক রকম জনশ্রুতি আছে। বিজ্ঞানকে প্রতি পদে হার মানায় এই স্থান এখানে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যার কিনারা করতে বিজ্ঞানও ব্যার্থ।

No comments:

Post a comment