Trending

Sunday, 12 May 2019

আত্মহত্যার জন্য কোনারক মন্দিরে পূজা বন্ধ!!




পুরীর জেলার  কোনারকের মন্দির যা সূর্য ভগবানের জন্য তৈরি হয়েছে। ১২৩৮ শতাব্দি থেকে শুরু হয় মন্দিরের কাজ। সেই সময়কার রাজা নরসিংহ দেব এর উদ্যোগে। রাজা নরসিংহ দেবের আদেশ ছিল ১২০০ শ্রমিকের ১২ বছরের মন্দিরটি শেষ করতে হবে। একটি শ্রমিক বা একটি দিনও যেন কম বেশি না হয়। না হলে শ্রমিকদের প্রাণহানি হবে। এই বারোশো শ্রমিক এর মধ্যে একজনের স্ত্রী ছিলেন গর্ভবতী। সেই ব্যাক্তির দুর্ভাগ্য তার যে একটি ছেলে হয়েছে এবং সে ১২ বছরের হয়ে গেছে ইতিমধ্যে তা তিনি জানতে পারেনি। এই দিকে তার ছেলে ধর্মদাস তাকে নিয়ে তার বন্ধুরা খুব মজা করে। মাকে তার খুব দেখতে ইচ্ছা করে। একদিন মায়ের কাছে জোর করে তার বাবার পরিচয় জেনে মায়ের অনুমতি নিয়ে পরিচয় পত্র হিসাবে এক বিশেষ গাছ নিয়ে বাবার জন্য বেরিয়ে পরল সে 12 বছরের বাচ্চা। কোন বাবা খুশি হবে না তার ছেলেকে 12 বছরে প্রথমবার দেখে। কিন্তু ধর্মদাসের বাবা তখন খুব সংকটে। আর মাত্র ৭ দিন বাকি কোন প্রকারেই মন্দিরে মঙ্গল ঘট বসানো যাচ্ছে না। ছেলে বাবার কষ্ট দেখে একবার চেষ্টা করার অনুমতি চাইলো। বাবা উপায় না দেখে ছোট্ট বাচ্চাটার উপর ছেড়ে দিল। ধর্মদাস সফল হল। কিন্তু রাজার আদেশ তো ১২ জন শ্রমিক এর থেকে বেশি হতে পারবে না। কিন্তু এত ১২০১ হয়ে গেল প্রান্ তো রক্ষা হলো না।
ওইটুকু বয়সে বারোশো শ্রমিকের প্রাণ বাঁচাতে মন্দিরের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করল ছোট বাচ্চাটি। মন্দিরটি অপবিত্র হলো এবং আজ পর্যন্ত সেখানে কোন পূজা হয়নি। এমনকি জুতো পড়ে ঘুরতে মন্দিরে মানা নেই।এবার যখন ইংরেজরা ভারতে আসে পুরি একটি মুখ্য বন্দর হয় মাঝে মাঝে দিকভ্রান্ত হয়ে যায় তাদের জাহাজের। গবেষণায় দেখা গেল মন্দিরের ভেতর একটি চুম্বক আছে যা প্রচন্ড শক্তিশালী। কোথা থেকে এর আবিষ্কার জানা যায়নি শোনা যায় সেই সময় ৮৫৭ ফুটের মন্দিরটি যা ব্যাসাল্ট শিলা দিয়ে তৈরি পাথরের ভেতরে লোহা ঢুকিয়ে শুধুমাত্র ওই চুম্বক এর দ্বারা তুলে তৈরি করা হয়। ব্রিটিশ শাসক ভারতের এই সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম এই মন্দিরটির কথা চিন্তা না করেই চুম্বককে নিয়ে চলে যায়। ফলে মন্দিরটি তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং ভাঙতে শুরু হয়। প্রচুর মানুষ প্রাণ হারাতে থাকে।




 শেষে ১৯০৪  সালে তিনশো বছর পর বড়লাট লর্ড কার্জনের দয়ায় মন্দিরটি ভেতর থেকে বালি ঢুকিয়ে ভাঙ্গা বন্ধ করা হয়। তার ফলে এখন উচ্চতা বাড়িয়েছে ২০০ ফুট। উড়িষ্যা ও দ্রাবিড় সংস্কৃতির সংমিশ্রণে নির্মিত মন্দিরটি ধূসর বেলেপাথর এর বিশাল একটি রথের আকারে গড়া হয়েছে। সমুদ্র থেকে উঠে আসা সূর্যদেবের বিশাল রথ।আর তার সঙ্গে রয়েছে সাতটি বিশাল ঘোড়া ।এ ঘোড়াগুলি সপ্তাহের ৭ দিন বলে মানা হয়। ১২ জোড়া বিশাল চাকার ওপর এই পুরো মন্দিরটি নির্মিত। ২৪ টি চাকা মানে ২৪ পক্ষ। চাকার কারুকার্য দর্শকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। এক একটি চাকা এক একটি সূর্য ঘড়ি। চাকার ভেতরের দার গুলি সূর্য ঘড়ির সময়ের কাটা। আটটি দড়ি মানে অষ্টপ্রহর। সাধারণ ঘড়ি এত নিখুঁত সময় বলতে পারে না যতটা এই সূর্য ঘড়ির সাহায্যে জানা যায়। মন্দিরের প্রবেশ পথেই রয়েছে বিশাল দুটি মূর্তি।তারা কথা বলতে পারে।অবশ্য যদি সেটা আপনারা বুঝতে পারেন। প্রথমে একটি  মানুষ তার উপর একটি হাতি তার ওপর সিংহ।তারা বলতে চায় টাকা আর ক্ষমতা এই দুটি মানুষের মনুষ্যত্ব কেড়ে নেয় যা পতনের মূল কারণ। এছাড়া রয়েছে নিত্য কক্ষ, ছায়া দেবীর মন্দির ও মায়া মন্দির। প্রতি বছরের ডিসেম্বর মাসে এই মন্দিরের প্রাঙ্গনে বসে ড্যান্স ফেস্টিভাল। সেই সময় সারা বিশ্ব থেকে ছুটে আসে নানা নৃত্য প্রেমী মানুষ। তাছাড়া প্রতিদিন দেশী বিদেশী পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে এই আশ্চর্য সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে।

No comments:

Post a comment