Trending

Friday, 31 May 2019

সরকারে থেকেও বিরোধিতা করা যায় আরো একবার প্রমাণ করলেন তিনি।


 গত কাল  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীত্বের  জন্য শপথ গ্রহণ করেছেন  ।সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত গোটা দেশের বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিরা । আমন্ত্রিতদের তালিকায় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।কিন্তু এ রাজ্যের  ৫৪ টি পরিবারকে বিজেপি কর্মীরা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নিয়ে যাচ্ছে যারা কোন না কোনভাবে তৃণমূল সরকার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ।সেই কারণে যাত্রা বাতিল করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নেমে পড়লেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করার জন্য। গোটা দেশ যখন প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের খবরে মগ্ন তখন তিনি উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটিতে একটি পুরসভার সামনে ধর্নায় বসবেন। তার এই রূপ পশ্চিমবঙ্গবাসী আগে অনেকবার দেখেছে। বিরোধী দলে থাকাকালীন তিনি দলীয় কর্মীদের রক্ষার্থে যখন তখন যেখানে সেখানে ছুটে যেতেন। কোন কিছুরই পরোয়া করতেন না ।কিন্তু এখন ৮ বছরের উপর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকার পরেও তাকে কেন এইভাবে ধর্নায় বসতে হচ্ছে?কারণ একটাই দলছুট বা বলা যেতে পারে ঘর ছুট দলীয় কর্মীদের কে আবার সুরক্ষিতভাবে ঘরে ফিরিয়ে আনা। মুকুল রায় অর্জুন সিং ইত্যাদি নেতারা যারা একসময় তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধি করত তারাই আজ তৃণমূল থেকে সরে গিয়ে বিজেপি র শক্তি বৃদ্ধি করছে এবং একইসঙ্গে তৃণমূলকে ধ্বংস করছে।

তৃণমূলে আজ ভাঙ্গন ধরেছে। একের পর এক বিধায়ক, দলীয় কর্মী বেরিয়ে যাচ্ছেন দল থেকে ।তাই এই অবস্থায় দলকে বাঁচাতে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী পথে নেমেছেন। কারণ এক নেতৃত্তের এই দলে দ্বিতীয় সারির নেতৃত্ব এতটাই অযোগ্য এবং অদক্ষ যে সবকিছু তাকে একাই সামলাতে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কর্তব্য পালনের পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের সংগঠিত করে ধরে রাখার কাজটাও তাকে নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে।  

একটি প্রশ্ন থেকেই যায় যে তিনি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে আছেন। তিনি নিজেই পুলিশ মন্ত্রী তাহলে তিনি নিজে কিভাবে আইন-শৃঙ্খলা ভাঙার মতো এই ধরনায় বসার কাজে মদত দিচ্ছেন?
আসলে দলের শিয়রে বিপদটা তিনি বেশ ভালভাবেই বুঝতে পারছেন। সে কারণেই রাজ্য পরিচালনার পাশাপাশি দলকে পুনরায় সংগঠিত করার জন্য সম্ভাব্য সমস্ত রকমের প্রয়াস জারি রেখেছেন। 

No comments:

Post a comment