Trending

Friday, 31 May 2019

সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন কলকাতা পরেশনাথ মন্দির



মন্দির মানে অতি পবিত্র স্থান যেখানে ঈশ্বর বসবাস করেন এবং ভক্তগণ মনস্কামনা পূরণের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানাতে আসে ন‌। কিন্তু আমাদের এই কলকাতার বুকে এমন কিছু মন্দির আছে যেগুলো শুধুমাত্র আধ্যাত্মিকতার জন্য নয় তাদের সৌন্দর্যের জন্য ও বিখ্যাত।তেমনি একটি মন্দিরের কথা আজ আমরা আলোচনা করব ‌। কলকাতার গৌরী বাড়িতে বদ্রিনাথ টেম্পেল স্ট্রিটে অবস্থিত ক্যালকাটা জৈন টেম্পল বা পরেশনাথ মন্দির। ১৮৬৭ সালে বদ্রি দাস বাহাদুর নামক এক শেঠজি এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। এই মন্দিরের ভিতরে আছে চারটি মন্দির।



মূল মন্দিরটি ভগবান শীতল নাথের। আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি ভগবান জীর কপালে হীরের টিপ পর্যটকদের আকর্ষণের লক্ষ্যবস্তু। অন্য তিনটি মন্দির যথাক্রমে চন্দ্র  প্রভুজি, দাদা ওয়ারী কুশল নাথ জি মহারাজ এবং মহাবীর এর। এই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল ২৩ তম জৈন তীর্থঙ্কর পরেশনাথের উদ্দেশ্যে। সেই কারণে মন্দির থেকে পরেশনাথ মন্দির ও বলা হয়ে থাকে।




মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে মার্বেল পাথর, মোজাইক কাচ, আয়না এবং বেশকিছু ইউরোপীয় মূর্তির সমন্বয় এ। মন্দিরের মেঝে মার্বেল পাথরের, পিলার গুলি আয়না খচিত হওয়ায় এর অপরূপ সৌন্দর্য দর্শক মন কে বিগলিত করে। এছাড়াও পিলারের সূক্ষ্ম গঠন শৈলী দেখবার মত। শুধু মন্দির ই নয় মন্দির চত্বরে সবুজের সমারোহে ঘেরা বাগান, মূর্তি সমন্বিত ফোয়ারা, কৃত্রিম জলাধার আর জলাধারে রংবেরঙের মাছের সমাবেশ প্রচুর দর্শক কে এখানে আকর্ষণ করে নিয়ে আসে ‌‌।


বিধান নগর স্টেশন থেকে শোভাবাজার গামি বাস অথবা শোভাবাজার বা শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশন থেকে খুব সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই মন্দিরে। মন্দিরটি প্রত্যেকদিন সকাল ১০ টা থেকে ১২ টা এবং বিকেল চারটে থেকে সাতটা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকে ‌। মন্দিরের শান্ত আধ্যাত্মিকতা মাখানো পরিবেশ যেমন দর্শক মনে শান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করে তেমনি এর পারিপার্শ্বিক সৌন্দর্য মনকে সজীব করে তোলে। তাই আধ্যাত্মিকতা এবং সৌন্দর্য্যে মোড়া এই মন্দিরে জনসমাগম বেড়েই চলেছে ‌। 

No comments:

Post a comment