Trending

Sunday, 19 May 2019

রাজবাড়ীর টানে রাজ ঐশ্বর্যের সন্ধানে





রাজার গল্প শুনতে আমরা সবাই ভালবাসি। সেই রাজা যদি সত্যি রাজা হয় তাহলে তো কথাই নেই। গল্প শোনার সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসটা জানা হয়ে যায়। কিন্তু হাতের কাছে এমন রাজবাড়ী পাব কোথায়? খুঁজলেই পাওয়া যাবে। খুঁজতে খুঁজতে চলে এলাম কোচবিহার। মদনমোহন রাজবাড়ীতে।




1887 সালে মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ন নির্মাণ করেছিলেন এই রাজবাড়ী। লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসের আদলে গড়ে তুলেছিলেন তার স্বপ্ন মহলকে ‌। এখানে ক্লাসিক্যাল ওয়েস্টার্ন শৈল্পিক নিদর্শন দেখা যায়। রাজবাড়ী দেখেই রাজার সংস্কৃতিমনস্ক এবং বৈভবের পরিচয় পাওয়া যায়। রাজবাড়ী টি 4000 মিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত ।এর উচ্চতা 128 ফুট। এই রাজবাড়ী র ঠিক মাঝখানে একটি সুসজ্জিত 124 ফুট উঁচু রেনেসাঁ শৈলীতে নির্মিত দরবার হল আছে, ‌ যা রাজ পরিবারের ঐশ্বর্য্যের নিদর্শন ‌‌।




এই রাজবাড়ীতে আসলে আপনি দেখতে পাবেন দরবার হল, ড্রেসিং রুম, ডাইনিংরুম,লেডিস গ্যালারি, গ্রন্থাগার, বেশ কিছু স্থাপত্যের নিদর্শন। কোচবিহারের এই মদনমোহন রাজবাড়ী শুধু যে তার রাজ ঐশ্বর্য্যের জন্য বিখ্যাত তাই নয় রাজ বাড়ির চারপাশে অত্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সবুজের সমারোহে ঘেরা বাগান, সুসজ্জিত পার্ক দর্শকদের মনকে আকর্ষণ করে ।প্রায় প্রতিদিনই প্রচুর সংখ্যক মানুষ আসেন সবুজের সমারোহে নিজের চোখকে সজীবতা দান করতে এবং রাজবাড়ীর ইতিহাসে নিজের মনের খোরাক জোগাতে। রাজবাড়ী প্রাঙ্গণে একটি সুন্দর পার্ক আছে যা ছোট শিশুদের অত্যন্ত প্রিয় এবং এখানকার জলাশয় প্রাকৃতিক পরিবেশ কে আরও মনোরম করে তুলেছে।সৌন্দর্যের কারণে মদনমোহন রাজবাড়ির আরেক নাম ভিক্টর জুবিলী পালেস ‌। সারা বছরই এই রাজ বাড়ির দরজা খোলা থাকে, তবে রাস পূর্ণিমার সময় এখানে খুব সুন্দর উৎসবের আয়োজন করা হয়। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন রাস পূর্ণিমায় যোগ দিতে। তাই রাস পূর্ণিমার সময় ছুটি পেলে মদনমোহন রাজবাড়ী ভ্রমণ এর থেকে ভালো কিছু আর বোধহয় হয় না।

No comments:

Post a comment