Trending

Wednesday, 1 May 2019

আত্মহত্যার জঙ্গল "আওকিগাহারা"




বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অনেক কিছুই আছে যা সভ্য সমাজের লোকচক্ষুর আড়ালে তাদের রহস্যের জাল দিনের পর দিন বিস্তার করে চলেছে। "সূর্যদয়ের দেশ" জাপানে এমন এক জঙ্গলের আছে যা কুখ্যাত আত্মহত্যার কারণে। অর্থাৎ এই জঙ্গলে দিনের পর দিন ধরে হয়ে আসছে আত্মহত্যা।

জাপানের দ্বীপ হনসুতে মাউন্ট ফুজিয়ামার পাদদেশে সুবিস্তৃত এই জঙ্গল যার নাম আওকিগাহারা। জঙ্গলটি তার ভৌগলিক অবস্থান ও শান্ত পরিবেশের জন্য পর্যটক দের কাছে অত্যন্ত বিখ্যাত। এই জঙ্গলে গাছের ঘনত্ব খুবই বেশি এবং পশুপাখি প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু ১৯৭০ সাল থেকে এই জঙ্গলে বছরে প্রায় ৫০-৬০ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। তাদের পচাগলা লাশ, নরকঙ্কাল, ব্যবহৃত জিনিসপত্র এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেখা যায়। বছরের একটা সময় জাপান সরকার এই জঙ্গল পরিষ্কার করে। কিন্তু বাকি সময় এই জঙ্গলকে নড়কের থেকে কিছু কম মনে হয় না। 



এত স্থান থাকতে মানুষ আত্মহত্যার জন্য আওকিগাহারা কেই কেন বাচেন? এই প্রশ্নের উত্তরগুলির মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য গল্পটি হলো ১৯৬০ সালে সেইচো মাতসুমোতে নামে এক জাপানি লেখক "কুরোয়ো কাইসু" নামে একটি উপন্যাস রচনা করেন যার শেষ দৃশ্যে দেখা যায় নায়ক নায়িকা এই আওকিগাহারা বনে এসে আত্মহত্যা করে। এই উপন্যাস টি জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে এছাড়াও ১৯৯৩ সালে ওয়াতারু তৎসুমির "The Complete Manual Of Suicide" প্রকাশিত হয় যেখানে আওকিগাহারা কে শ্রেষ্ঠ আত্মহত্যার স্থান হিসেবে বিবেচিত করা হয়। এই বইগুলির দ্বারা তৈরি হওয়া আবেগ ও অনুভূতি থেকে অনেক সুইসাইড এখানে ঘটেছে যার প্রমাণ পাওয়া যায় মৃতদেহের পড়ে পাশে থাকা বইগুলি থেকে। 



সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যে ভরা এউ জঙ্গল নাকি মানুষ কে আত্মহত্যার জন্য উৎসাহিত করে এমনটাই অনেকে মনে করেন। জাপানিদের মতে এই জঙ্গল থেকে বাড়ি ফেরা কার্যত অসম্ভব একটা ব্যাপার। এই ছিল আত্মহত্যার জঙ্গল আওকিগাহারার বৃত্তান্ত।

No comments:

Post a comment