Trending

Sunday, 26 May 2019

ওপার বাংলার হাতছানি



1947 সালে স্বাধীনতার সময় থেকে বাংলাদেশ আমাদের থেকে আলাদা। যদিও ধর্ম, ভাষা ,সংস্কৃতি সবই এক তবু ভৌগোলিক সীমারেখায় সে এক অন্য দেশ। তবে কিছু কিছু জায়গা আছে যেখান থেকে হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলা যায় ওপার বাংলাকে। আজ এমনই একটি স্থানের  সন্ধানে আমরা চলেছি ‌। আজ আমাদের গন্তব্য টাকি।সহজ সরল গ্রাম্য প্রকৃতি, নিস্তরঙ্গ ভাবে বয়ে চলা ইচ্ছামতী নদী হাতছানি দিয়ে ডাকে বার বার। টাকির পর থেকেই সুন্দরবন এলাকার শুরু হচ্ছে তাই একে অনেকে গেটওয়ে অফ সুন্দরবন বলে।





এবার জেনে নেয়া যাক কি কি দর্শনীয় স্থান অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। প্রথমেই আছে টাকি রাজবাড়ী ঘাট। টাকি রাজবাড়ীর অবস্থা বর্তমানে খুবই শোচনীয়। পাঁচিল ভেঙে গাছ গজিয়ে উঠেছে। তবে রাজবাড়ী স্মৃতি রক্ষার্থে পৌরসভা থেকে রাজবাড়ী ঘাটটি খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ চাইলে এখানে পিকনিক করতে পারে। মাঝখানে বয়ে চলেছে ইছামতি। নদীর এপারে  ভারত ওপারে বাংলাদেশ। ইছামতি নদী এখানে নো ম্যানস ল্যান্ডের কাজ করে। তাই প্রতিটি ভারতীয় নৌকায় ভারতীয় পতাকা দেখা যায়। এবার চলে যাব টাকি জোড়া মন্দিরে। জমিদার গোপী নাথ রায় চৌধুরী বিশাল পুকুর কাটিয়ে এই জোড়া শিব মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। এটি এখানকার প্রধান ঐতিহ্য। 




আরো একটি স্থান পর্যটক এর আকর্ষণীয় জায়গা সেটি হলো টাকি জমিদার বাড়ি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে এটি খোলা হয় আর দুর্গাপূজার সময় সব সময় খোলা থাকে। এখনো প্রতি বছর এখানে দুর্গাপূজা হয়। তবে টাকির প্রধান আকর্ষণ মিনি সুন্দরবন। সড়কপথে 20থেকে 25 মিনিট গাড়িতে চলে যাওয়া যায় মিনি সুন্দরবন। তবে যাওয়ার সময় অবশ্যই আসল পরিচয় পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। সীমান্তের কাছাকাছি বলে বিএসএফ চেকপোস্ট থেকে অনুমতি নিতে হয়। 




সুন্দরবনের একটি ছোট মডেল রূপে মিনি সুন্দরবনের  দর্শককে স্বাগত জানায়। গোলপাতা জঙ্গল ,শ্বাসমূল বনের মাঝখান দিয়ে সরু পথে চলে যাওয়া যায় ইচ্ছা মতি নদীর পারে। এ পাড়ে দাড়িয়ে দেখা যায় ওপারে বাংলাদেশকে। প্রতিবছর দুর্গাপূজার বিসর্জনের সময় দুই দেশের ঠাকুর নৌকায় করে নদীতে ঘোরানো হয়। দুই পাড়ে ই বিসর্জন দেখতে উপচে পড়ে ভিড়।

টাকি যেতে হলে বারাসাত চাপাডালি মোড় হয়ে সড়ক পথে আসা যায়। আবার রেলপথে শিয়ালদা হাসনাবাদ লোকাল ধরে আসা যায়। রেলপথে আশাই সুবিধাজনক। নামতে হবে টাকি রোড স্টেশনে। তারপর একটি টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন টাকি ভ্রমণে। ইচ্ছেমতি নদীর পারে বেশ কয়েকটি গেস্ট হাউস হোটেল রয়েছে ‌। নদীর শান্ত পরিবেশে আর বিশুদ্ধ হাওয়ায় বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে চাইলে দু-একদিন থেকেও যেতে পারেন। 

No comments:

Post a comment