Trending

Thursday, 2 May 2019

সপ্তাহ শেষে চলুন ধান্যকুড়িয়া


কলকাতার কাছেই উত্তর ২৪ পরগণা জেলার এক ছোটো জনপদ হলো ধান্যকুড়িয়া। এক সময় এই ধান্যকুড়িয়া তে ছিল বাংলার বহু সম্পন্ন পরিবারের বাস ছিল তাদের তৈরি অনেক প্রাসাদ প্রমাণ বাড়ি, ভিলা, মিনার, মন্দির সব আজও দাঁড়িয়ে আছে। এই ধান্যকুড়িয়া তে বাস ছিল বল্লভ, গায়েন ও সাউ পরিবারের। এইসব ব্যবসায়ী বাড়িগুলির সাথে ব্রিটিশ দের পাট ও অন্যান্য দ্রব্যের লেনদেন ছিল এই লাভজনক ব্যবসার কারণে এরা খুবই লাভবান হয় ও ব্রিটিশ সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য এলাকার দ্রুত উন্নতি সাধন করে। লাইব্রেরি, হাসপাতাল, রাসমঞ্চ, নহবৎখানা সকল জিনিস আজও দাঁড়িয়ে আছে তাদের ইতিহাদের নিদর্শন রুপে।



টাকী রোডের উপর ২২৫ বছরের পুরোনো গায়েন দের ভিলা আজও দাঁড়িয়ে আছে যা তৈরি করা হয়েছিল ব্রিটিনের ক্যাসেলের আদলে। প্রবেশদ্বার তোরণদ্বার এর উপর অধিষ্ঠান করছে সিংহের সাথে যুদ্ধরত যোদ্ধা। বাড়ির ভিতরেই আছে তাদের গৃহদেবতা রাধাকৃষ্ণ এর মন্দির যদিও বাড়ির ভিতরে প্রবেশাধিকার বহিরাগত দের নেই। বাড়ির ভিতর আছে নহবৎখানা যা তিন ধাপে তৈরি নিজের ধাপ হিন্দু, মধ্যম ধাপ খ্রিষ্টান ও উপরের ধাপ ইসলামিক স্থাপত্যের নিদর্শন দেখা যায়।



বল্লভ ও সাউদের আদি বাড়িও এখনো আছে যা প্রায় ২০০-২৫০ বছর পুরোনো আছে করিয়ান্থিয়ান ঘড়ানার স্তম্ভ সমৃদ্ধ দালান ও বাগান বাড়ি। আছে রাসমঞ্চ যাতে রাস উপলক্ষে মেলা বসে। এছাড়াও লাইব্রেরি ও আরো প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন পাবেন এই ধান্যকুড়িয়া তে এলে। তাহলে আর দেড়ি কেন এই সপ্তাহ শেষের ছুটিতেই ঘুড়ে আসুন প্রাচীন জনপথ ধান্যকুড়িয়া।



পথনির্দেশ :- বারাসাত থেকে বসিরহাট গামী বাসে ধান্যকুড়িয়া স্টপেজে নেমে হেটে পৌঁছে যাবেন এইসব স্থানে।ট্রেনে শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদগামী ট্রেনে উঠে কাকড়া মির্জানগর স্টেশনে নেমে অটো বা টোটো চেপে পৌঁছে যাবেন ধান্যকুড়িয়া তে। তাহলে আর দেড়ি না করে ঘুড়ে আসুন ধান্যকুড়িয়া।

No comments:

Post a comment