Trending

Thursday, 30 May 2019

রাজনৈতিক ঐতিহ্য বহনকারী কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি।



পঞ্চদশ শতকে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের স্থাপিত বসতবাড়ি আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কৃষ্ণনগরের বুকে। এই অঞ্চলটির নাম কৃষ্ণনগর হয়েছে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নাম অনুসারে। সময়ের প্রবাহে প্রবাহিত হতে হতে আজ রাজবাড়ীর জৌলুস অনেকটাই ম্লান, ‌ ভেঙে পড়েছে সিংহদুয়ার, পলেস্তারা খসে ইট বেরিয়ে পড়েছে। কিন্তু রাজার সৌখিন স্থাপত্য গুলি আজও টিকে আছে। মহারাজ শক্তি ধর্মের পুজারি ছিলেন। 



মূল ফটক পার করলে চোখে পড়বে বিশালাকায় সিংহদুয়ার । সেটি পেরিয়ে ভেতর দিকে এলে দালান বাড়ি। চারপাশে বিস্তৃত বাগিচায় যত্নের ছাপ সুস্পষ্ট । বাগিচার ঠিক মাঝখানে আছে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আবক্ষ মূর্তি। পুরো বাগিচা  অত্যন্ত সৌখিনভাবে তৈরি করা চারপাশ পরীখা দিয়ে ঘেরা। মাঝখানে মাথা উঁচু করে আছে কৃষ্ণচন্দ্রের আমলে ব্যবহৃত কামানটি। যেন মহারাজের শৌর্য বীর্যের পরিচয় বহন করছে। এই রাজবাড়ী পরিদর্শন করতে আসলে প্রত্যেকে এক বাক্যে স্বীকার করবে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের শিল্পের প্রতি আগ্রহের কথা। এই বাড়ির প্রত্যেকটি দেওয়ালে গম্বুজের অসংখ্য স্থাপত্যের নিদর্শন আজ ও তার চিহ্ন বহন করছে। 



রাজবাড়ীতে আজও ধুমধাম করে পালিত হয় দুর্গোৎসব এবং জগধাত্রী পূজা ‌‌। রাজবাড়ীর উত্তরসূরিরা যতটা সম্ভব বজায় রাখার চেষ্টা করেছে এ বাড়ির আভিজাত্য। এ ছাড়া আরও দুটি অনুষ্ঠান এখানে পালিত হয় একটি হলো ঝুলন মেলা জুলাই আগস্ট মাসে, অন্যটি মার্চ এপ্রিল মাসে দোল বা হোলি উৎসব। এই কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি কৃষ্ণনগরে মানুষের গর্ব। প্রশাসনের সহায়তা পেলে হয়তো আরো ভালো ভাবে প্রাচীন বাংলার এই ঐতিহাসিক নিদর্শন কে সংরক্ষণ করা যেত‌। এখনো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন এই রাজবাড়ী পরিদর্শনে।

No comments:

Post a comment