Trending

Sunday, 26 May 2019

অভিশাপে জর্জরিত ঐশ্বর্যময়ী প্রাসাদ




সম্পত্তির লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়, আর এই লোভ যখন মাত্রাছাড়া হয় তখন সে কোন পথে মানুষকে চালিত করে সেটা মানুষ হয়তো নিজেও বুঝতে পারে না। একজনের লোভের ফল ভুগতে হয় উত্তরসূরিদের। এমনই ঘটনার কারণে আজ ৪০০ বছর ধরে কর্নাটকের মাইসোর প্যালেস অভিশপ্ত।
কর্ণাটক রাজ্যের মাইসোর প্যালেস কে নির্মাণ করেছিলেন ওয়াদিয়ার রাজবংশ। ১৬১২ সালে বিজয়নগর রাজ্য আক্রমণ করেন ওয়াদিয়ার রাজবংশ। সেই সময় মাইসোরের রাজা ছিলেন থিরুমালা রাজা। মাইসোর এর কাছে কেশরের যুদ্ধে তাকে হত্যা করা হয়।
কথিত আছে শুধুমাত্র রাজ্য দখলই নয় ,রাজা ওয়াদিয়ারের নজর ছিল মাইসোরের আদি রঙ্গা দেবীর মন্দিরের বহুমূল্য গয়না প্রতি। কিন্তু রাজার মৃত্যুর পরেও সেই গয়না গচ্ছিত ছিল মহারানী অলমে লাম্মা র কাছে। গয়না হাতানোর জন্য মহারানী কে বিভিন্ন ভাবে হেনস্থা করেছিলেন রাজা ওয়াদিয়ার। কিন্তু কোনরকমে মাইসোরএ রাজা ওয়াদিয়ার বন্দি গৃহ থেকে গয়না নিয়ে পালিয়ে যান রানী অলমেলাম্মা।





আশ্রয় নেন মাইসোর এর কাছে তালাকোডে। কিন্তু রাজার সৈন্যরা তাকে সেখানেও ধাওয়া করে ধরে ফেলে ।ধরা পড়ার ভয়ে তিনি কাবেরী নদীর প্রচন্ড ঘূর্ণিতে গয়নাগুলো সহ ঝাঁপ দেন। মৃত্যুর আগে তিনি অভিশাপ দিয়ে যান-কাবেরীর মালেঙ্গি তে ঘূর্ণি আসবে ,তালাকোড মরুভূমিতে পরিণত হবে ,আর রাজা ওয়াদিয়ার রাজবংশের কোন উত্তরসূরি থাকবে না।

তারপর থেকেই তালাকোড অঞ্চল বালিতে ঢেকে রয়েছে। মালেঙ্গিতে সৃষ্টি হয়েছে প্রচন্ড ঘূর্ণি।আর গত ৪০০ বছর ধরে ওয়াদিয়ার যাদের বংশে কোন পুত্র সন্তান জন্ম নেয় নি। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ওয়াদিয়ার নিঃসন্তান অবস্থায় নিজের ভাগ্নেকে দত্তক নিয়ে সিংহাসনে বসান। সেই ভাগ্নের একটি পুত্র সন্তান জন্মালে ও তার ছেলে শ্রীকান্ত দত্তের কোন পুত্র সন্তান হয়নি।
ঐতিহাসিকেরা স্বীকার করেছেন যে ১৭ শতক থেকে ওয়াদিয়া রাজবংশের 6জন রাজা নিজেদের ভাগ্নেকে  সিংহাসনে বসিয়ে বংশ রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তবে এর সঙ্গে সেই অভিশাপ এর কোন যোগ আছে কিনা তা নিয়ে তারা মুখ খুলতে চাননি।




মাইসোর এবং তালাকোড বর্তমানে কর্ণাটকের অতি পরিচিত দর্শনীয় স্থান।সৌন্দর্যের সঙ্গে সঙ্গে রাজপরিবারের করুন ইতিহাস জায়গাগুলির আকর্ষণ আরো বাড়িয়েছে।পর্যটকদের ভিড়ের হিসেবে আগ্রার তাজমহল এর পরেই মাইসোর প্যালেস এর নাম উঠে আসে। প্রতিবছর গড়ে ৬ মিলিয়ন পর্যটক স্থান ভ্রমণ করতে আসেন।  

No comments:

Post a comment