Trending

Monday, 6 May 2019

নবদ্বীপের রাসের অজানা গল্প!




বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ কিন্ত এই তেরো পার্বণের সবাদ যদি একসাথে পেতে যান তাহলে আপনাকে দেখে যেতে হবে নবদ্বীপের রাস উৎসব। নদীয়া জেলার প্রাচীন জনপথ নবদ্বীপ যা শ্রীচৈতন্য এর জন্মভূমি ও গৌড়ীয় সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসেবেও প্রসিদ্ধ। মূলত বৈষ্ণব প্রাধান্য এই স্থানে বেশি থাকলেও রাসে পূজিত হন অনেক শাক্ত দেবদেবী। বৈষ্ণব উৎসব রাসে পূর্ণিমায় শাক্ত দেবদেবীদের পূজা নবদ্বীপের অলি-গলিতে হয় এবং এর সাথে কলকাতার বারোয়ারী দূর্গাপূজা গুলির মিল পাওয়া যায়। কিন্তু কি করে মিশে গেলো এই বৈষ্ণব ও শাক্ত সংস্কৃতি আসুন ইতিহাসের পাতা থেকে জেনে নি সেই ঘটনা।




নবদ্বীপে রাস উৎসবের সূচনা করেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় সালটা ১৭৪০-১৭৬০ এর মধ্যবর্তী। নদীয়ায় বৈষ্ণব দের প্রাধান্য বাড়তে থাকলে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তান্ত্রিক ভৃগুর নির্দেশে তিনি তার সভাসদ দের বলেন নিজেদের বাড়িতে রাসপূর্ণিমার লগ্নে বিভিন্ন শাক্ত দেবদেবীদের পূজা করতে বলেন। তাদের উৎসাহীত করার জন্য তিনি সকলকে ১ টাকা করে পুরস্কার দেন ও নিজে সপরিবারে পোড়ামাতলায় বসে শোভাযাত্রার আয়োজন করেন ও শ্রেষ্ঠ প্রতিমাগুলিকে পুরস্কৃত করেন এই প্রথা আড়ং নামে পরিচিত।




এইভাবে রাজার আদেশ অনুযায়ী নবদ্বীপে রাস উৎসবের সূচনা ঘটে। রাস উৎসবে কিছু অপরিচিত শাক্ত দেবদেবীর প্রতিমা আমরা দেখতে পাই। রাস পূর্ণিমায় পূজিতা কিছু জনপ্রিয় প্রতিমা হলো :- "শবশিবা মাতা", "রণকালি মাতা", "গঙ্গা মাতা", "গৌরাঙ্গীনি মাতা", "কৃষ্ণমাতা" প্রভৃতি। চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন নবদ্বীপ ধান রাস পূর্ণিমার পূন্যলগ্নে এবং সাক্ষী হতে পারেন ঐতিহাসিক শোভাযাত্রা "আড়ং" এর।

No comments:

Post a comment