Trending

Sunday, 9 June 2019

কলকাতায় বাতিল হলো গোমাংস উৎসব



সরাসরি হুমকির জেরে সদর স্ট্রিটের গো মাংস উত্‍সব বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের দাবি, অনুষ্ঠানের নাম বদল করেও হুমকি বন্ধ হয় নি। অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত।কলকাতা বিফ ফেস্টিভ্যালের উদ্যোগ নিয়েছিল দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল নোট নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা। ৩০মে ফেসবুকে সংস্থার পেজে প্রথম অনুষ্ঠানের কথা ফলাও করে প্রচার করা হয়। তারপর থেকেই তাদের কাছে আসতে থাকে একের পর এক হুমকি ফোন। এমনকি প্রাণনাশের ফোনও পেয়েছেন।বাধ্য হয়েই অনুষ্ঠানের নাম 'কলকাতা বিপ ফেস্টিভাল' করেন উদ্যোক্তারা।কিন্তু তাতে মেলেনি রেহাই।

উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০০ ফোন পান তাঁরা। অধিকাংশই হুমকি ফোন। এরপরই অনুষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। ফেসবুকে বিবৃতি দিয়ে তাঁরা জানিয়েছেন,'কলকাতা চিরকাল রসনাপ্রিয় খাবার পছন্দ করেন কলকাতাবাসী, বিশেষ করে পর্ক ও বিফ। প্রতিবারই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মেলে। এবারও সকলেই চেয়েছিলেন। রাজনীতির সংস্রব ও বিতর্ক এড়াতে নির্বাচনের পর অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু গতকাল থেকে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে গিয়েছে। তিনশোর বেশি কল এসেছে। এসেছে ঘৃণাপূর্ণ বার্তাও। খাদ্যরসিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সে কারণে কলকাতা বিপ ফেস্টিভ্যাল বাতিল গোটা ঘটনায় নিন্দায় সরব হয়েছেন অনেকেই। তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজার কথায়,"সংবিধানে কে কী খাবে তার উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। অথচ একদল লোক এগুলো করছে। মানুষ ভয় পাচ্ছে"। কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন,"ঘটনাগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে দেশ পিছিয়ে পড়ছে"।

প্রকাশ্যে গোমাংস খেয়ে কলকাতায় আখলাক হত্যার প্রতিবাদ করেছিলেন সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। বিকাশের কথায়, " এটা নিন্দনীয়। বিফ ফেস্টিভ্যালের সুষ্ঠু আয়োজনে নিরপাত্তা দিতে পারছে না রাজ্যের প্রশাসন"। এনিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চায়নি বিজেপি। তবে এক বিজেপি নেতার বক্তব্য, ফেস্টিভ্যালে গোমাংস ও শুয়োরের মাংস রয়েছে বলে দাবি করছেন উদ্যোক্তারা। তাহলে নামকরণ পর্ক ফেস্টিভ্যালও তো রাখা যেত। হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত করেই এমন উত্সবের আয়োজনের চেষ্টা হয়েছিল। সাধারণ মানুষই প্রতিবাদ করেছেন। 

No comments:

Post a comment