Trending

Thursday, 13 June 2019

বারবার চিকিৎসক নিগ্রহের প্রতিবাদ, চিকিৎসা সংকটে গোটা রাজ্য


কোন হাসপাতালে চিকিৎসক নিগ্রহের প্রতিবাদে সেই হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তার এবং ইন্টার্নরা কর্মবিরতি পালন করেছেন এমন ঘটনা আমরা বারবার দেখেছি, কিন্তু কোন একটি হাসপাতালে ডাক্তার নিগ্রহের ঘটনায় গোটা রাজ্যের চিকিৎসাব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছে এমন ঘটনা সত্যি নজিরবিহীন। সোমবার রাতে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তারদের মারধরের ঘটনার পর মঙ্গলবার কার্যত এই ছবি দেখা গেল গোটা রাজ্যে। 

উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ সমস্ত সরকারি হাসপাতালেই জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে চিকিৎসাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেয়েছে। শুধুমাত্র বহির্বিভাগ বন্ধ থাকার কথা বলা হলেও কার্যত সাধারণ বিভাগ এমনকি জরুরি বিভাগে ও কাজকর্ম প্রায় বন্ধ ছিল। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের শারীরিক অবস্থার খবর নিতে আসেন নি কোন চিকিৎসক। জরুরী অবস্থায় নিয়ে আসা রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে বাধ্য হয়েছেন রোগীর পরিবার।

বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন জুনিয়র ডাক্তার এরা। বিষ্ণুপুরে পথদুর্ঘটনায় আহত দুজনকে নিয়ে আসা হলে তাদের সেখানে চিকিৎসা মেলেনি। হাসপাতালে সুপার ঘটনাটি দেখছেন বললেও কার্যত বিকেল পর্যন্ত তারা বিনা চিকিৎসায় বাইরে পড়েছিল। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও জরুরি বিভাগে ঢোকার পথ বন্ধ করে দেন ইন্টার্নরা। মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে শুধুমাত্র মেডিসিনের বহির্বিভাগ চালু ছিল। কল্যাণী জহরলাল নেহেরু মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন এবং হাউ স্টাফ এরা কালো ব্যাজ পড়ে প্রতিবাদে নামেন। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে ঢোকার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আহত রোগীর পরিবারের সঙ্গে ডাক্তারদের হাতাহাতি বাধে পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। জরুরী পরিষেবা বন্ধ ছিল মালদা মেডিকেল কলেজেও । মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে জুনিয়র ডাক্তারেরা জরুরি পরিষেবায় ঘরটি বন্ধ করে দেন।

বেলা বারোটার পর এসএসকেএম ,ন্যাশনাল, কলকাতা মেডিকেল কলেজ, আর জি কর এর ডাক্তারেরা প্রতিবাদে সামিল হন। এস এস কে এম এ দীর্ঘক্ষন জরুরি পরিষেবা বন্ধ থাকায় হরিশ মুখার্জি রোড, এ জে সি বোস রোড ক্যাথিড্রাল রোড এ অবরোধ শুরু হয়।
কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজের বহির্বিভাগ এ মাত্র একজন চিকিৎসক ছিলেন। এখানেও জরুরি পরিষেবা বন্ধ ছিল। দুপুরে জরুরি বিভাগে পরিষেবা বন্ধ ছিল।দুপুরের পর ডাক্তারেরা মিছিল করে সেখান থেকে এন আর এস এর উদ্দেশ্যে রওনা হন।
কার্যত গোটা রাজ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে আহত রোগী এবং ভর্তি থাকা রোগীদের নিয়ে চূড়ান্ত সমস্যায় পড়েছেন পরিবার পরিজনেরা। 

No comments:

Post a comment