Trending

Friday, 21 June 2019

মাঝ সমুদ্রে শিব মন্দির



আমাদের ভারত বর্ষ সবদিক থেকে অতুলনীয়। তা সে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ই হোক অথবা মাটির নিচে লুকানো অতুলৈশ্বর্য, কিংবা ঐতিহাসিক কাহিনী অথবা আধ্যাত্মিকতা। সমস্ত দিকেই ভারতবর্ষের সমতুল্য আর কোন দেশ নেই পৃথিবীতে। আজ আমরা আলোচনা করব ভারতেরই এমন এক মন্দির এর কথা বৈজ্ঞানিক যুক্তিতে হিসেব মেলে না।


অজস্র মন্দিরের দেশ ভারতবর্ষে এমন অনেক মন্দির আছে যার স্থাপত্যশৈলী আমাদের মুগ্ধ করে ।যার আধ্যাত্মিকতা এবং দেব মহিমার কথা লোকমুখে প্রচারিত । যে মন্দিরগুলি ঐতিহাসিক কাল থেকে অতীত এবং বর্তমানের মধ্যে এক অদ্ভুত সুন্দর মেলবন্ধন তৈরি করেছে। কিন্তু মাঝ সমুদ্রে থাকা কোন মন্দিরের কথা কি শুনেছেন? হয়তো শুনেছেন ,তবে বিষদে জানেন না। আজ আমরা আলোচনা করব গুজরাটের এমনই একটি মন্দিরের কথা যেটি আরব সাগরের মাঝখানে অবস্থিত। গুজরাট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শিব মন্দিরটি মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য সমুদ্রের উপরে জেগে ওঠে। স্থানীয়ভাবে এ মন্দির টিকে নিশকলঙ্গেশ্বর মন্দির বলা হয়। স্থানীয় লোকের মুখে এই মন্দিরের আধ্যাত্মিক মহিমা অনেকদিন ধরেই প্রচারিত হয়ে আসছে ।আর সেই মহিমার টানেই দিনে দিনে পর্যটকদের ভিড় বেড়ে চলেছে এই মন্দিরে। তার উপর আবার কথিত আছে এই মন্দির থেকে নাকি কেউ খালি হাতে ফেরেন না। আর মানুষের তা চাহিদার শেষ নেই। তাই এমন এক মন্দিরে যে ভক্ত সমাগম বাড়বে এতে অস্বাভাবিক কিছুই নেই।


মন্দিরটি পুরোটাই সমুদ্র দ্বারা আবৃত। চারপাশে অথৈ জলের মধ্যে একটু খানি জমির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে মন্দিরটি। সমুদ্রের মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় ভক্তরা চাইলেই যখন তখন এই মন্দির অথবা ভগবান শিবের দর্শন করতে পারেন না। এই মন্দির দর্শন করতে হলে আসতে হবে দুপুর একটা থেকে রাত্রি দশটার মধ্যে। কারণ দিনের বাকি সময়টা এই মন্দিরটি জলের তলায় থাকে। দেব মহিমায় হোক অথবা কোন বৈজ্ঞানিক কারণে হোক দিনের বাকি সময়টা এই মন্দিরে প্রবেশ পথ পুরোপুরিভাবে জলমগ্ন থাকে। অদ্ভুতভাবে দুপুর 1 টা থেকে রাত 10 টা পর্যন্ত প্রবেশপথে কোন জলে আসে না।
এই সময়টুকুতে ভক্তরা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেন। ভগবান শিবের দর্শন করতে পারেন এবং তার পুজো দিতে পারেন। তবে জোয়ারের সময় পুরো মন্দিরটি জলের তলায় থাকে। মন্দিরটির উপরে কুড়ি ফুট লম্বা থামের কিছু অংশ এবং মন্দিরের ধ্বজা টি শুধু দেখা যায়। আবার আশ্চর্য রকম ভাবে দুপুর একটার পর থেকে জল নামতে শুরু করে। তখন দর্শনার্থীরা আবার প্রবেশ করতে পারেন মন্দিরে।


এই মন্দির সম্পর্কে প্রচুর কাহিনী প্রচলিত আছে। কেউ বলেন বাবা নাকি সকলকে দেখা দেন না। আবার অনেকে বলেন বাবা সকলের ই মনস্কামনা পূরণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা সত্য মিথ্যা মন্দির সম্পর্কে একটি ইতিহাস তৈরী করে রেখেছে।মন্দির সম্পর্কে অনেক লোকে অনেক কথা বলে থাকেন। কেউ বলেন এ মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল পান্ডবদের সময় ।আবার কারো মতে এই মন্দিরটি তার থেকেও প্রাচীন।


তবে মন্দিরটি ঠিক কবে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং কে বা কারা এমন অদ্ভুত একটি মন্দির তৈরি করেছিলেন সে বিষয়ে আমাদের বিশেষ কিছু জানা নেই। তবে আধ্যাত্মিকতার টানে অসংখ্য ভক্তদের মতন আপনিও ঘুরে আসতে পারেন গুজরাটের এই শিব মন্দিরে। শুধু আধ্যাত্মিকতাই  বা কেন এমন এক আশ্চর্য মন্দির দেখাও তো কম বড় ব্যাপার নয় তাই না। তাই গুজরাট যাবার কোন প্ল্যান থাকলে সেখানকার ভ্রমণ তালিকায় আমাদের ভারতের অতি আশ্চর্য মন্দিরটি কেওরাখবেন। হয়তো গুজরাট ভ্রমণ এর মধ্যে এমন দিয়ে ভ্রমণটি আপনার মনের কোণে দাগ কেটে যাবে। 

No comments:

Post a comment