Trending

Tuesday, 11 June 2019

অতি প্রাচীন ভারতীয় নিদর্শন ডাকে হাতছানি দিয়ে



খ্রিস্টপূর্ব 200 শতাব্দি থেকে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত ধাপে ধাপে নির্মিত হয়েছিল 30 টি গুহা। আমরা কথা বলছি মহারাষ্ট্রের অজন্তা গুহা স্তম্ভ সম্পর্কে। গভীর গিরিখাতের পাথর কেটে খোদাই করে বানানো এই 30 টি গুহা বৌদ্ধ ধর্মের শিল্পরীতির উৎকৃষ্ট নিদর্শন। এখানে পাথরের গায়ে খোদাই করে ভগবান বুদ্ধের জীবনী বর্ণিত আছে। ফ্লেক্সো ধাঁচের এই গুহা গুলিতে বিভিন্ন রং দিয়ে চিত্রগুলি কে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে।


এই গুহা গুলির সঙ্গে ভারত এবং জাভার ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় জড়িয়ে আছে। ভারতের শিল্প বিবর্তনের ব্যতিক্রমী সাক্ষ্য বহন করে অজন্তা গুহা। একই সাথে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জীবন শৈলী, গুপ্ত এবং তার পরবর্তী উত্তরাধিকারীদের কার্যকলাপ, তাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় সমূহ, ধর্মীয় প্রেক্ষাগৃহ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়। খ্রিস্টপূর্ব 200 শতকে নির্মাণ করা হয়েছিল 29 টি গুহা। 650 খ্রিস্টাব্দে সেগুলিকে পরিত্যাগ করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি গুহা তে ছিল মন্দির, 24 টি গুহাটি ছিল বৌদ্ধমঠ ।যেগুলি প্রায় 200 বৌদ্ধ সন্ন্যাসী দের অধিকারের ছিল।এর মধ্যে ছিল মোট সতেরোটি হিন্দু গুহা, পাঁচটি জৈন মন্দির এবং 12 টি বুদ্ধ গুহা।


1819 সালে একটি ব্রিটিশ বাঘ শিকারীর দল এই গুহা গুলোকে পুনরায় আবিষ্কার করেন। এর আগে অব্দি গভীর অরণ্যের মাঝে অবস্থিত গুহাগুলি বিলুপ্তির পথে চলে গিয়েছিল। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙের বর্ণনাতেও অজন্তা গুহা গুলির বর্ণনা রয়েছে।অজন্তা এবং অদূরবর্তী ইলোরা গুহা গুলি ভারতের অতি মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন।মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ জেলার জলগাঁও রেলস্টেশনের কাছে অজন্তা গ্রামের প্রান্তে অবস্থিত এই মহা গুলি 1983 সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তকমা পেয়েছে।


No comments:

Post a comment