Trending

Thursday, 13 June 2019

ভগবান যখন মোটরবাইক






রাজস্থানের ছোটিলা গ্রাম। নামের মতোই ছোট্ট সেই গ্রাম। আর সেই গ্রামেই রয়েছে এক ছোট্ট মন্দির। আকারে ছোট হলেও সেই মন্দির মাহাত্ম্যে অনেক বড়। মন্দিরের নাম— বুলেট বাবার সিরনি।নাম শুনে অবাক হচ্ছে নিশ্চই। হ্যা এই মন্দিরের দেবতা হলেন একটি পুরানো এনফিল্ড বুলেট। সেই সঙ্গে পূজিত হন সেই বাইকের মালিক মৃত ওম সিংহ রাঠোর। যদিও ভক্তদের  কাছে তিনি — ‘ওম বান্না।’

এই সিরনিতে গেলে দেখা যাবে, কাঁচের বাক্সে রয়েছে একটি রয়্যাল এনফিল্ড ৩৫০সিসি বুলেট এবং তার পাশে ওম বান্নার ছবি। ফুল মালায় ঢাকা বুলেটটির নম্বর প্লেট আর দেখা যায় না । সারাক্ষণ জ্বলছে ধূপ।

ঠিক এই জায়গাতেই ১৯৮৮ সালে একটি দুর্ঘটনা হয়েছিল। তাতেই মৃত্যু হয় ওম সিংহ বান্নার। ওম বান্না বিয়ের পরে পরেই এই বুলেটটি কেনেন। গ্রামবাসীদের কথায়, স্ত্রীর মতোই নিজের বাহনটিকে ভালবাসতেন বান্না। কিন্তু ১৯৮৮ সালের ২ ডিসেম্বর পালি থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাইকের চাকা স্কিড করে একটি গাছে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওম সিংহ বান্নার। পুলিশ বান্নার দেহ এবং বাইক নিয়ে যায় পুলিশ স্টেশনে। কিন্তু পরের দিনই দেখা যায় পুলিশ স্টেশনে বাইকটি নেই। অনেক খুঁজে সেটিকে পাওয়া যায় দুর্ঘটনাস্থলে।

পুলিশ ফের নিয়ে যায় বাইকটি। কিন্তু ফের সেটি উধাও হয়ে যায় এবং দুর্ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়। বার বার একই ঘটনা ঘটতে থাকায় পুলিশ হতবাক হয়ে যায়। বাইকটি চেন দিয়ে বেঁধে রেখে, তেলের ট্যাঙ্ক খালি করে দিয়েও কোনও লাভ হয়নি। এই তথ্য জানাজানি হওয়ার পরেই তৈরি হয় মন্দির। সেই দুর্ঘটনায় যে গাছটিতে ধাক্কা মেরেছিল ওম বান্নার বাইক সেই গাছকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে রহস্যময় ‘বুলেট বাবার সিরনি।’


সেখানকার মানুষ মনে করে ওম বান্না দুর্ঘটনাগ্রস্থ মানুষদের রক্ষা করে।অনেকেই বলেন  রাস্তা দিয়ে যাওয়া সব গাড়িকে তিনি হাত দেখিয়ে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে বলেন। তাই ওই রাস্তা দিয়ে যাবার সময় যাত্রীরা ওম বান্নার মন্দিরে পুজো না দিয়ে যায়না।পুজো  দিতে এসে  আবার অনেকে মদও দিয়ে যায়।সেখানকার মানুষ বিশ্বাস করে যারা ওম বাবার মন্দিরে পুজো না দিয়ে যায় তারা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়। মন্দিরে  নিয়মিত ওম বান্নার ভজন করা হয়।যে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে ওম  সিং রাঠোরের মৃত্যু হয়েছিল সেই গাছটিকেও রোজ পুজো করে গ্রামবাসীরা।কিন্তু কিভাবে ওম  সিং রাঠোরের গাড়িটি থানা থেকে দুর্ঘটনার স্থলে পৌঁছে যেত তা এখনো সবার কাছে রহস্য। 

No comments:

Post a comment