Trending

Sunday, 23 June 2019

মন ভিজে যায় সমুদ্রে




আমরা বাঙালিরা নিজেদের দীর্ঘ কর্মব্যস্ততার পর একটু ছুটি পেলেই ছুটে যেতে চাই কোন অজানা আকর্ষণে।সে  পাহাড় হোক বা সমুদ্র অথবা জঙ্গল। কিন্তু সে স্থানের মধ্যে নতুনত্ব থাকা চাই ।সে স্থানে এমন কিছু থাকা চাই যেটা আগে আমরা দেখি নি। তবে চাইলেই তো আর হলো না। সব সময় এমন নতুন নতুন জায়গা কোথায় পাবো? আর হাতে সময় খুব বেশি থাকে এমন তো নয় ।সারা সপ্তাহের পর হয়তো দুটো দিনের ছুটি। এই দুদিনের মধ্যেই যাওয়া-আসা শেষ করে নতুন জায়গা দর্শন। তাই ইচ্ছে থাকলেও অনেক সময়ই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে হয়। আর কাছাকাছি যাবার জায়গা বলতে দীঘা মন্দারমনি তাজপুর ইত্যাদি। তবে এই সমুদ্র সৈকত গুলোর পাশাপাশি আরও একটি সমুদ্র সৈকত বর্তমানে নিজের অভিনব বৈশিষ্ট্যের দ্বারা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে ।আজ আমাদের গন্তব্য সেই নবতম সমুদ্র সৈকতে। নাম উদয়পুর।



উদয়পুর সমুদ্র সৈকতটি বাংলার সীমানা এবং উড়িষ্যার বালেশ্বর জেলা র সীমানায় অবস্থিত। অর্থাৎ বলা যেতে পারে বাংলা এবং উড়িষ্যা কে সংযুক্ত করেছে এই উদয়পুর সী বিচ। অন্যান্য সমস্ত সমুদ্র সৈকত এর মত সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়ালে আপনার পায় আছড়ে পড়বে ঢেউ ।দূর থেকে দেখতে পাবেন দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশ, যেখানে আকাশ আর সমুদ্র এক সীমারেখায় মিশেছে। তবে এই সমস্ত কিছু ছাড়িয়ে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য উদয়পুর কে সকলের কাছে প্রিয় করে তুলছে। আর সেটি হলো এখানকার অস্থায়ী স্টল। জোয়ারের সময় সমুদ্রের জল অনেকটা দূর পর্যন্ত এগিয়ে আসে ।আবার ভাটার সময় পিছিয়ে যায়। আর তাই সমুদ্রের সৈকতে থাকা স্টল গুলি কখনো স্থায়ী হয় না এগুলো অস্থায়ী। স্টলগুলোতে ঘুরতে ঘুরতে আপনার পায়ে আছড়ে পড়বে সমুদ্রের ঢেউ, যা  আপনাকে বারবার আকর্ষণ করবে নিজের দিকে।



উদয়পুর সি বিচে এসে মাছ ভাজা না খেয়ে যাওয়াই যায় না ।এখানে বিভিন্ন প্রকারের মাছ এবং কাঁকড়া সমাহার রয়েছে আপনার জন্য ,যেগুলি আপনার সামনেই তৈরি করে আপনাকে পরিবেশন করা হয়। এমনকি সেই  মাছ ভাজা ও খাবেন সমুদ্রের জলের সঙ্গে খেলা করতে করতে।
এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা কিন্তু দীঘা ,পুরী, মন্দারমনি  বা অন্য কোন সমুদ্র সৈকতে নেই। সে সমস্ত জায়গাতেই একটি নিরাপদ দূরত্বে বসার জায়গা করা হয়ে থাকে, কিন্তু উদয়পুর এর বৈশিষ্ট্য হলো আপনাকে সমুদ্র জলের সঙ্গে খেলা করতে করতেই বাকি কাজ সারতে হবে।




খাওয়া সমাপ্ত হলে বেরিয়ে পড়ুন সমুদ্র সৈকত ভ্রমণে। সমুদ্রের ধারে নীরব অথচ উচ্ছল প্রকৃতির সঙ্গে কথা বলতে বলতে নিজেকে নতুনভাবে আরেকবার চিনে নিন। উদয়পুর  সমুদ্র সৈকত এখনো এত ঘিঞ্জি হয়নি, তাই লোকজনের কোলাহল, আবর্জনা এ সমস্ত কিছু এখানে নেই। মনের সুখে দু এক কলি গেয়ে  উঠতে পারেন। আপনার বেসুরো গলার ভুল ধরার মতন কেউ নেই এখানে। আপনার যদি মনে হয় সমুদ্র সৈকতের ভ্রমণের সঙ্গে সঙ্গে একটু সমুদ্র ভ্রমণ করে আসবেন তার ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। স্পিডবোট, বাইক রাইড, বেনানা বোর্ডস এ সমস্ত ব্যবস্থা এখানে রয়েছে পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য। এর কোন একটাতে চেপে বেশ কিছুটা সমুদ্র ভ্রমণ করে আসতে পারেন। আর স্নান করতে চাইলে তো কোন বাধাই নেই। যখন তখন ঝাঁপিয়ে পড়ুন সমুদ্রের জলে।




উদয়পুর নিউ দীঘা এবং তালসারির মধ্যবর্তী একটি এলাকা। এটি মূলত একটি শান্ত সমুদ্র সৈকত, যেটি বাংলা এবং ওড়িশা কে সংযুক্ত করেছে ।দিঘা স্টেশন থেকে উদয়পুর এর দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। সমুদ্রের জোয়ার ভাটার সময় জলের তারতম্যের কারণে এখানকার ব্যবস্থা টা একটু অন্যরকম। তবে আস্তে আস্তে উদয়পুর আরও বিভিন্ন রকম আনুষঙ্গিক জিনিসে সেজে উঠছে যা পর্যটকদের আকর্ষণ করবে। হোটেল গেস্ট হাউস এর সংখ্যা খুব বেশি এখানে নেই ।তাই আসার আগে উদয়পুরে রাত্রি বাস করতে হলে একটু ভাল করে খোঁজখবর নিয়ে আসতে হবে। অথবা আপনি নিউ দিঘা বা  তালসারি তে রাত্রি বাস করতে পারেন। উদয়পুর কে সাজিয়ে তুলতে বিভিন্ন রকম সরকারি প্রকল্প শুরু হয়েছে। হয়তো আগামী কয়েক বছরে উদয়পুর দীঘার মতন অতি জনপ্রিয় একটি সমুদ্র সৈকতে পরিণত হবে। তবে এখন উদয়পুরে যে শান্তি ও নীরবতা এবং প্রকৃতির উচ্ছলতা উপভোগ করা যায়, হয়তো তখন মানুষের ভিড়ে কলকোলাহলে এবং কংক্রিটের কৃত্রিমতায় সেটি হারিয়ে যাবে।






তাই কৃত্তিম ভাবে সেজে ওঠার আগেই একবার নিরাভরণ উদয়পুর দর্শন করে আসুন। চোখ ও মনে প্রশান্তি তো হবেই সমুদ্রের জলে পা ভেজানোর সঙ্গে সঙ্গে আপনার মন ভিজে যাবেএর অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে। 



No comments:

Post a comment