Trending

Tuesday, 4 June 2019

ব্রিটিশ শাসিত ভারতে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র রাজপুতানা



গোটা দেশ ব্রিটিশ শাসনের নির্মম শোষণের শিকার হয়েছিল কিন্তু এ ভারতেরই কিছু কিছু স্থান এর দিকে ব্রিটিশরা চোখ তুলে তাকাবার সাহস পায়নি। রাজপুত শাসিত রাজস্থান এমনই একটি জায়গা। উত্তরপূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে আরাবল্লী পর্বত এবং থর মরুভূমি পরিবেষ্টিত এ রাজস্থান অনেকবার প্রতিবেশী রাজ্য দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিবেশী মারাঠা রাজ্য দ্বারা বেশ কয়েকবার সে আক্রমণের শিকার হয়েছে কিন্তু কখনোই মাথা নত করেনি। 






মুঘলদের সঙ্গে রাজপুত রাজাদের সুসম্পর্ক বজায় ছিল। এমনকি রাজপূতরা মুঘলদের জন্য নিজেদের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিল। মুঘল সম্রাট আকবরের সময় এই সম্পর্ক আরও বেশি জোরালো হয়। তবে ঔরঙ্গজেব এর সময় এ সম্পর্কের ভাঙ্গন ধরে ।কারণ 
ঔরঙ্গজেব হিন্দুদের  ধর্ম বিদ্বেষী বলে মনে করতেন। এ কারণে তিনি রাজা জয় সিং কে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেন। তারপর থেকেই মুঘলদের সঙ্গে রাজপুত সম্পর্কে চিড় ধরে। 




200 বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে ব্রিটিশ অত্যাচার এর কোন ছায়া পড়েনি রাজপুত রাজ্য গুলির উপর ‌। 1947 সালের ভারত স্বাধীন হওয়ার পর সমস্ত রাজপুত দেশীয় রাজ্যগুলি কে একত্রিত করে রাজপুতানার অধীনে আনা হয় এবং 1949 সালের 23 শে মার্চ গঠন করা হয় রাজস্থান। রাজপুতানার সঙ্গে আজমীর মার ওয়ার প্রদেশ কে সংযুক্ত করে রাজস্থান কে গঠন করা হয়। বর্তমানে রাজস্থান ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য। দিল্লি থেকে 300 কিলোমিটার  এবং আগ্রার তাজমহল থেকে 200 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজস্থান।



রাজা জয়সিংহ তার রাজধানী রাজপুতানা থেকে সরিয়ে এনেছিলেন জয়পুরে। বিদ্যাধর ভট্টাচার্য নামক জনৈক বাঙালি জয়পুরের ডিজাইন বানান। 1876 সালে প্রিন্স অফ ওয়েলস এর রানী ভিক্টোরিয়া ভারত সফরে আসেন। গোলাপি রং টা তার বেশ পছন্দের তাই রাজা রাম সিং গোটা জয়পুর শহরের সমস্ত বাড়ি কে রাঙিয়ে দেয় গোলাপি রঙে।




জয়পুর অতি প্রাচীন শহর। ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের সংযোগ স্থাপন করে সে এগিয়ে চলেছে ভবিষ্যতের দিকে। রাজস্থান এবং জয়পুরের ইতিহাস ঘাটলেই বোঝা যায় কেন ভারত বর্ষ বিশ্ব সেরা ছিল। আজ ভারতের সে প্রাচীন ঐতিহ্যের অসংখ্য নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে জয়পুরের আনাচে কানাচে।  

No comments:

Post a comment