Trending

Friday, 21 June 2019

কত কি আশ্চর্য জিনিস আছে ভারতের শেষ বিন্দুতে



ভারতবর্ষের পুরোটাই অভিনবত্বে ঘেরা। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত তার বিস্তার। বিচিত্র প্রাকৃতিক রূপ, বিভিন্ন জাতির সংমিশ্রনে গঠিত এক মিলিত মানবতার ছবি, তাদের নানা রকমের রীতি-রেওয়াজ ,আলাদা আলাদা পোশাকের ধরন, বিভিন্ন রকম খাদ্যাভ্যাস এ সমস্ত কিছু দেখে শেষ করার নয়। ঐতিহাসিক অর্থাৎ অতীত-বর্তমানের সংমিশ্রণে ভারত বর্ষ সত্যিই এক আশ্চর্য দেশ।



আজ আমাদের আলোচ্য বিষয় এই ভারতবর্ষের সর্বশেষ বিন্দুতে থাকা কন্যাকুমারী। এটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সর্বদক্ষিণ বিন্দুতে অবস্থিত। ভারতের পশ্চিম উপকূল ধরে প্রসারিত পশ্চিমঘাট পর্বতমালার এলাচ পর্বত শ্রেনীর দক্ষিণ প্রান্তে এটি অবস্থিত। কন্যাকুমারী জেলার সদর শহর নাগের কোয়েল। এটি একটি অতি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। কন্যাকুমারী নামটি এসেছে হিন্দু দেবী কন্যাকুমারীর নাম অনুসারে যার স্থানীয় নাম কুমারী আন্নাম। কন্যাকুমারী 3 সাগরের মিলন ক্ষেত্রে অবস্থিত স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিতে ভরপুর।তামিলনাড়ু রাজ্যের অন্তর্গত এই কন্যাকুমারীতে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের ত্রিবেণী সঙ্গম দেখা যায়। এখানকার সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত সত‍্যিই দর্শকের মন কেড়ে নেয়।কন্যাকুমারী সূর্যোদয় সূর্যাস্ত দেখার জন্যেই দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক ছুটে আসেন সাগরতীরে।


সমুদ্রতীরে আছে কুমারী দেবী আম্মান মন্দির। এখানে আজও দেবী পার্বতী কুমারী রূপে ভগবান শিবের জন্য প্রতীক্ষা করছেন। পাশেই রয়েছে লঞ্চঘাট। সেখান থেকে লঞ্চে করে বিবেকানন্দ রক মিউজিয়ামে যাওয়া যায়। সাগরের মাঝখানে পাথরের মূর্তির উপর অজন্তা ইলোরা গুহার মতন তৈরি করা রয়েছে বিবেকানন্দ রক টেম্পেল। ব্রোঞ্জ অবয়বে আছে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি। বেশ কিছুটা দূরেই আর একটি পাথরের উপরে তামিল কবি থিরুভাল্লুভার এর একটি মূর্তি আছে। এটি 133 ফুট উঁচু। কুমারী মন্দির এর কাছে আছে গান্ধী মেমোরিয়াল। সমুদ্রের বিসর্জন দেওয়ার আগে এখানে রাখা হয়েছিল গান্ধীজীর চিতা ভস্ম।


কন্যাকুমারী থেকে 6 কিলোমিটার দূরে রয়েছে পর্তুগীজদের শহর ভেটটা কোটটা। এটি 18 শতকে তৈরি। এখান থেকে 13 কিলোমিটার দূরে সুচিন্দ্রম মন্দিরে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর অবস্থান করছেন। এটি শৈব বৈষ্ণব ধর্ম অবলম্বী দের একটি পবিত্র তীর্থস্থান। আবার এখান থেকে 19 কিলোমিটার দূরে নাগেশ কয়েল এ সর্প দেবতার মন্দির আছে। এই শহর থেকে 45 কিলোমিটার দূরে পদ্মনাভপুর এ অবস্থিত ত্রিবাঙ্কুর রাজপ্রাসাদ। কোনটার ই গুরুত্ব কিছু কম নয়। সমুদ্র সৈকত এবং উল্লেখিত স্থান গুলো ছাড়াও কন্যাকুমারীর লোকাল মার্কেটেও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এখানে অনেক জায়গাতেই বেলি ফুলের মালা পাওয়া যায় কারণ এই মালা এখানকার নারীদের প্রসাধনের একটি অন্যতম অঙ্গ। আবার রাস্তার ধারে মাছ ভাজা খাওয়ার মজাটা ও কিছু কম নয় পছন্দমত মাছ বেছে দিলে তারা তখনই কেটেকুটে সুন্দর করে মাছ ভাজা হাজির পড়বে পর্যটকদের সামনে। পর্যটকদের এমনি এমনি তো আর এত ভালো লাগে না কন্যাকুমারী শহরকে।


কন্যাকুমারী যাওয়ার পথ কাউকে বলে দিতে হবে না। তবুও প্রাসঙ্গিকতার স্বার্থে জানিয়ে রাখছি মাদুরাই থেকে প্রচুর বাস যায় কন্যাকুমারী দিকে।আবার কেরালা ত্রিবান্দম থেকেও বাস ছাড়ে কন্যাকুমারীর উদ্দেশ্যে। কন্যাকুমারী ভারতের একটি অতি পবিত্র তীর্থস্থান। প্রাচীনকাল থেকে বহু মনীষীর পদধূলি পড়েছে এই শহরে।আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে মহামানবদের মিলনে কন্যাকুমারী আধ্যাত্মিকতা ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের অপূর্ব নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে তার পর থেকে। এই শহরটি যেমন তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য প্রসিদ্ধ।তেমনি এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কিছু কম নয় ।সামান্য কথার মাধ্যমে কন্যাকুমারীর ঐতিহাসিক এবং আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য কিছুটা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম তবে এই জায়গা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অবশ্যই একবার নিজে গিয়ে দেখে আসতে হবে।


No comments:

Post a comment