Trending

Sunday, 16 June 2019

নতুন ভাবে দেখা মুকুটমণিপুর




 বাঙালি ভ্রমণ পিপাসু। হাতে বেশ কয়েক দিনের ছুটি পেলেই সে বেরিয়ে পড়ে এদিকে ওদিকে। কখনও পাহাড় কখনো জঙ্গল কখনো বা সমুদ্রের ধারে। তবে চিরাচরিত এই বিশেষ স্থান গুলির কে বাদ দিলেও আরো অনেক স্থান আছে যেগুলির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।
 যেগুলি সজীবতার  সঙ্গে সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে নতুন ভাবে আমাদের কাছে ধরা দেয়। আজ আমাদের গন্তব্য তেমনই একটি স্থান যা কলকাতা থেকে খুব বেশি দূরে নয় অথচ যে তার নিজস্ব সৌন্দর্য মহিমায় সম্পূর্ণ আলাদা একটি জগত তৈরি করেছে নিজের। আজ আমাদের গন্তব্য মুকুটমণিপুর।



মুকুটমণিপুর শহরটি অম্বিকানগর থেকে 4 কিলোমিটার দূরে। এ শহরটি নির্মাণ করেছিলেন অম্বিকানগর এর মহারাজা তার প্রিয়তমা পত্নী মুকুট মণির উদ্দেশ্যে।এখানে একটি বিশাল ওয়াটার ডেম আছে যা সম্পূর্ণ মানুষের দ্বারা নির্মিত। কংসাবতি ড্যাম, এটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মানুষের দ্বারা নির্মিত ড্যাম।



অম্বিকানগর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ স্থান হল দেবী অম্বিকার মন্দির। অম্বিকানগর ছিল জৈন ধর্মের একটি প্রসিদ্ধ পীঠস্থান ।তাই এখনো এ দিকে ও দিকে তাকালে অনেক জৈন মূর্তির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া অম্বিকানগর এর আরো একটি দর্শনীয় স্থান হল অম্বিকানগর রাজবাড়ি। যদিও বর্তমানে রাজবাড়ীর অবস্থা ভগ্নপ্রায় তবুও রাজ বাড়ির ঘ্রাণ এখনো লেগে আছে ইটের খাঁজে খাঁজে। ঠিক আছে কাজেই রাজবাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অনেক গুপ্ত ইতিহাস। অনেক হাসি কান্নার সাক্ষী হয়ে আছে এই রাজবাড়ী। কালের স্রোতে যদিও রাজবাড়ী তার প্রাচীন জৌলুস হারিয়েছে তবে তার ঐতিহাসিক মূল্য কোথাও কিছু কমে যায়নি ‌।



বাঁকুড়ার অন্যতম প্রধান বিপ্লবী রানিবাঁধ এর সামন্ত রাজা রাইচরণ ধবল উনবিংশ শতাব্দীর শেষ থেকে বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত বেশ কয়েক বছর বাংলার বিপ্লবীদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছিলেন। অথচ তার কথা আমরা ইতিহাস বইতে খুজে পাইনা। আসলে এমন বেশ কিছু রাজা এবং জমিদার ছিলেন যারা নিরবে দেশের জন্য নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করে গেছেন। আনুমানিক পনেরশো খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি অম্বিকানগরে রাজত্ব করতেন রাজা গোপীনাথ ধবল। তার স্ত্রী ছিলেন মুকুট মণি, যার নামে এই এলাকার নাম মুকুটমণিপুর।



রাজবাড়ী দর্শনের পর চলে আসতে পারেন পরেশনাথ মন্দির এ।বেশ কিছুটা উঁচুতে অবস্থিত পরেশনাথ মন্দির কংসাবতী ড্যামের একদম কাছেই।এখানকার পুরোহিতের কাছ থেকে জানা যায় এই মন্দিরে এমন অনেক মূর্তি আছে যে মূর্তিগুলি কংসাবতি ড্যাম নির্মাণ করার সময় মাটির তলা থেকে পাওয়া গিয়েছিল। পরেশনাথ মন্দির থেকে গোটা কংসাবতী কে খুব সুন্দর ভাবে দেখতে পাওয়া যায়। হাতে সময় থাকলে চলে যেতে পারেন মূসাবীয়ানা ।এটিও আরেকটি দর্শনীয় স্থান মুকুটমনিপুরের।



কলকাতা থেকে সড়ক পথে আপনি মুকুটমণিপুর যেতে পারেন । তবে যদি রেলপথে যেতে চান তবে বিশেষ কয়েকটি ট্রেন আপনাকে স্বাগত জানাবে। আপনি হাওড়া থেকে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ধরতে পারেন ,যেটি সকাল 6 টা 25 শে ছাড়ে এবং বাঁকুড়া স্টেশনে পৌঁছায় সকাল দশটা কুড়ি মিনিটে। এছাড়া আপনি ধৌলি এক্সপ্রেস এ ও আসতে পারেন। আবার হাওড়া স্টেশন থেকে হাওড়া বোকারো প্যাসেঞ্জার ধরেও বাঁকুড়া ষ্টেশনে আসতে পারেন। বাঁকুড়া স্টেশন থেকে প্রাইভেট কার বুক করে আপনি মুকুটমনিপুর এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারেন। অথবা বাসে করে আসতে পারেন। এছাড়া শতাব্দী এক্সপ্রেস বা ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসে আপনি মুকুটমণিপুর আসতে পারেন।




মুকুটমণিপুর আসার অনেকগুলো রাস্তা আমি বলে দিলাম ।এবার আপনি নিজের পছন্দ মতন উপায় খুঁজে নিন মুকুটমণিপুর ঘুরতে আসার জন্য। প্রকৃতির মাঝে নিজেকে আরো একবার আবিষ্কার করতে এবং যান্ত্রিকতার বাইরে ইতিহাসের ছোঁয়া পেতে যেকোনো একটা ছুটি কাটিয়ে আসুন মুকুটমণিপুরে। 





No comments:

Post a comment