Trending

Saturday, 8 June 2019

'মিস ট্রান্স ইন্ডিয়া' ২০১৯ প্রতিযোগিতা জয় করলো অ্যানি।



অ্যানি দত্ত চক্রবর্তী। অনীক দত্ত থেকে অ্যানি। সফরটা  খুব একটা সহজ ছিল না। কিন্তু আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনও কাজই যে আটকে থাকে না, তা প্রমাণ করে দিয়েছিলেন অ্যানি। বিয়েও করেছিলেন। আর এবার তাঁর 'মিস ট্রান্স ইন্ডিয়া ২০১৯'-র খেতাব জয় সেকথা আরও একবার প্রমাণ করে দিল। ভারতসেরা হয়ে ঘরের মেয়ে ঘরে ফেরার পর বাড়িতে আজ হুল্লোড়।বউমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ শাশুড়ি,প্রতিবেশীরা।



 দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের চকভৃগু এলাকার বাসিন্দা অ্যানি। সমাজের তথাকথিত নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চিকিত্‍সার মাধ্যমে অনীক আজ হয়ে উঠেছেন অ্যানি। পেশায় তিনি শিক্ষিকা।তপনের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন অ্যানি। পাশাপাশি একজন সুদক্ষ মেক-আপ আর্টিস্ট এবং নৃত্যশিল্পীও বটে! গতবছরই সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন প্রেমিক সাগ্নিক চক্রবর্তীর সঙ্গে। বর্তমানে অ্যানির ঠিকানা জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি। সেখানেই স্বামী-শাশুড়ি নিয়ে দিব্যি গুছিয়ে সংসার করছেন।


 ব়্যাম্প তাঁকে টানে বরাবরই। তাই মধুচন্দ্রিমা সেরে সংসার সামলে ফিরেছিলেন র‍্যাম্পে। 'মিস ট্রান্স ইন্ডিয়া ২০১৯'-এর শেষ বারোতে পৌঁছে অ্যানি বলেছিলেন, 'আমার বিশ্বাস আছে। ভারত সেরার দৌড়ে আমি সফল হবই। এর পরে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করব।' 'মিস ট্রান্স ইন্ডিয়া ২০১৯'-এর প্রায় সবক'টি স্তরেই বিচারকদের মন জয় করেন অ্যানি।


বিচারকরা তাঁকে যখন প্রশ্ন করেন যে এই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় সেরার শিরোপা জিতলে ভবিষ্যতে কী করতে চান অ্যানি, তার উত্তরেই বিচারকদের মন জিতে নেন। অ্যানির জবাব ছিল, 'আমি যদি ভবিষ্যতে প্রচুর টাকার মালিক হই, তাহলে সবার প্রথমে বাচ্চাদের জন্য একটা স্কুল খুলব, যেখানে আমার মতো তৃতীয় লিঙ্গের পাশাপাশি সাধারণ বাচ্চাদেরও বিনামূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা থাকবে। সমাজের সঙ্গে লড়াইটা যাতে তাদের কাছে সহজ হয়ে যায়, সেই চেষ্টাই করব।' প্রতিযোগিতা শেষে সেরার শিরোপা ওঠে তাঁর মাথায়।


তারপর জয়ের মুকুট নিয়ে জলপাইগুড়ি ফেরেন নয়াবস্তি পাড়ার বউমা অ্যানি। সকালে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে ভারত সুন্দরীর মুকুট মাথায় বউমাকে বরণ করে নিলেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা। 

No comments:

Post a comment