Trending

Sunday, 2 June 2019

বরফে ঢাকা পাহাড় চূড়ায় বিরাজ করেন মহেশ্বর



ভারতের প্রাচীন হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই শিব ধাম না শুধু ভক্তদের আকৃষ্ট করে বরঞ্চ শ্বেত শুভ্র প্রাকৃতিক মহিমায় দূর-দূরান্ত থেকে টেনে আনে বহু বিদেশী মানুষ কে। 12 জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম এই কেদারনাথ ধাম শাক্ত সম্প্রদায়ের এর একটি পবিত্র স্থান।



উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল হিমালয় পর্বত শ্রেণী তে অবস্থিত কেদারনাথ শহরে মন্দাকিনী নদীর তীরে কেদার পর্বতের পাদদেশে স্থাপিত  এই মন্দির প্রাচীনকাল থেকেই অত্যন্ত পবিত্র এবং জাগ্রত একটি তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। শোনা যায় প্রাচীন পুরুষ আদি শঙ্কর এ মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন একটি বিশেষ জ্যোতির্লিঙ্গের কারণে। এই মন্দিরের জ্যোতির্লিঙ্গ টি ত্রিভুজাকৃতি। বেদব্যাসের মহাভারত এ কেদারনাথ মন্দিরের উল্লেখ আছে। বলা হয়েছে যে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পাপ বিনাশের জন্য পাণ্ডবগণ এই মন্দিরে এসে ভগবান শিবের পূজা করতেন।


প্রচন্ড শীতের কারণে ছয় মাস মন্দির বন্ধ থাকে ।সেই সময় মন্দিরে র মূর্তি  অন্য একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে পূজা করা হয় ‌। শীতের পর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন এই মন্দির খোলা হয় এবং কার্তিক পূর্ণিমা অবধি মন্দির খোলা থাকে।এ ই মন্দির এর আগের নাম ছিল কেদার খন্ড।


এখানে পূজিত হন কেদারনাথ। কেদারনাথ মন্দির একটি মন্দির না এখানে পরপর পাঁচটি মন্দির আছে ।এই কারণে একে পঞ্চ কেদার বলা হয়ে থাকে। কথিত আছে পঞ্চকেদার এ ভগবান শিব এর পাঁচটি দেহাংশ পড়েছিল। কেদারনাথে পড়ে ভগবান শিবের পৃষ্ঠদেশ, রুদ্রনাথ এ করেছিল মুখ অংশ, তুঙ্গনাথ এ পড়ে তার হাত, অল্পেস্বরে পড়ে জটা শুদ্ধ মাথা এবং মদমহেশ্বর পড়ে নাভি সমেত পেট।
 তবে কেদারনাথ মন্দির শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক স্থান হিসেবে প্রসিদ্ধ নয়। এর আশেপাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শক মনকে মুগ্ধ করে।


মন্দাকিনী তিরে আছে অগস্ত্য মুনির আবাসস্থল। গুপ্ত কাশিতে বিশ্বনাথ, অর্ধনারীশ্বর মন্দির পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ এর কারণ। গৌরীকুণ্ডে আছে উষ্ণপ্রস্রবণ। শোনা যায় এই উষ্ণ প্রসবন এ স্নান করলে সমস্ত পাপ নাশ হয়। এছাড়া আছে ভৈরব নাথ মন্দির ।এই মন্দিরে শিবরাত্রির দিন প্রচুর ভিড় হয় কথিত আছে এই দিন মানুষের সঙ্গে অনেক আর তাও আসে দেব অর্চনায় শামিল হতে।
সমস্ত কিছু মিলিয়ে কেদারনাথ মন্দির আধ্যাত্মিকতা এবং নৈসর্গ প্রাকৃতিক সভার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। 

No comments:

Post a comment