Trending

Thursday, 11 July 2019

'এমন ঘনঘোর বরিষায়'


 বর্ষার দামাল রূপ এবং প্রকৃতির নবযৌবন লাভ দেখতে হলে অবশ্যই আসা দরকার বিভূতিভূষণ অভায়ারণ্যে। ইছামতীর তীরে গড়ে ওঠা এই অভয়ারণ্য এক নিমিষেই দিতে পারে শহরের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি। প্রকৃতির সবুজ রাজ্যের মায়াময় গোলকধাঁধায় হারিয়ে যেতে আমাদের প্রত্যেকেরই ইচ্ছে করে। তাইতো বারবার অনুসন্ধানে মেতে উঠি আমরা। সেই অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে সহজেই ঘুরে আসা যায় এই অভয়ারণ্য থেকে। ১৯৮০ সাল নাগাদ প্রায় ৯২ হেক্টর বনাঞ্চল নিয়ে পরিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠে এই অভায়ারণ্য। প্রথমে নাম ছিল পারমাদান অভয়ারণ্য। পরে প্রখ্যাত লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নাম রাখা হয় বিভূতিভূষণ অভয়ারণ্য। আপাতদৃষ্টিতে এটি ডিয়ার পার্ক হিসেবেই বেশি খ্যাত।



বাঁশ, তুঁত, অর্জুন,  শিমুল, শিরীষ ,  শিশু ইত্যাদি নানা জাতের বৃক্ষ সমাহারে গড়ে উঠেছে এই মনোরম স্থানটি। বর্ষার জল সবুজ রং-তুলি নিয়ে প্রতিবছরই রাঙিয়ে তোলে তাদের নতুন সাজে। এই অভয়ারণ্যে ৩০০ টিরও বেশি হরিণ,  হনুমান,  সাপখোপ ছাড়াও আছে নানা প্রজাতির পাখি। যেমন - শঙ্খচিল, মৌটুসী, কাঠঠোকরা,  নীলকন্ঠ ইত্যাদি।
সাহিত্য প্রিয় বাঙালি জায়গাটিতে গেলেই বিভূতিভূষণ 'এর প্রকৃতির  স্বপ্নরাজ্যের সাথে নানাবিধ মিল খুঁজে পাবেন। কখনো মনে পড়বে 'আরণ্যক' বা 'পথের পাঁচালী'র কথা কখনো বা 'ইছামতী'র।


কলকাতা থেকে এই অভয়ারণ্যের দূরত্ব খুব বেশি নয়। নানা উপায়েই  সেখানে পৌঁছানো যায়। শিয়ালদহ থেকে বনগাঁগামী ট্রেনে চড়ে বনগাঁয়  নেমে নানা গাড়ি বা বাস এর মাধ্যমে অতি সহজেই প্রবেশ করা যায় এই মায়ানগরীতে। তাছাড়া শহীদ মিনার থেকে CSTC 'র  বাসে চড়েও নলডুগরি  হয়ে চলে আসা যায় এখানে। অভয়ারণ্যের ভিতর থাকার জন্য আছে WBFDC  দ্বারা পরিচালিত গেস্ট হাউস।


 শুধুমাত্র অভয়ারণ্যে ভ্রমণই নয়, তার ধার ঘেঁষে ইছামতি নদীতে নৌকা বিহারেও  মত্ত হওয়া যায়। দেখে নেওয়া যায় নৌকা চড়ে মঙ্গলগঞ্জের জীর্ণপ্রায় নীলকুঠিটিকেও। কাছেই আছে বাংলাদেশ সীমান্তের চৌটিয়া গ্রামটিও।অনেকে শীতকালীন ভ্রমণের জন্য অভয়ারণ্যটিকে বেছে নিলেও,  রোমান্স প্রিয় বাঙালি মন যদি প্রকৃতির উন্মত্ত  রূপ দেখতে আগ্রহী হয়ে থাকে  ; তবে বর্ষাকালই  এই অভয়ারণ্য ভ্রমণের ক্ষেত্রে একেবারে উপযুক্ত !

No comments:

Post a comment