Trending

Wednesday, 10 July 2019

বিশ্বের সর্বকালের সেরা ধনী ব্যক্তি যিনি টেক্কা দিয়েছেন বিল গেটস কেও!!



বিশ্বের শীর্ষ সম্পদশালী মানুষের কথা মনে হলেই আমাদের সামনে যে নাম গুলো চলে আসে তা হলো বিল গেটস, কার্লোস স্লিম, ওয়ারেন বাফেট, রথচাইল্ড কিংবা রকফেলার পরিবারের নাম। তবে যদি বলা হয়, আরও এখন থেকে প্রায় ১৪ শতক আগে পশ্চিম আফ্রিকার এক ধনকুবের তাদের সবার চেয়ে অনেক বেশি সম্পদের মালিক ছিলেন। তাহলে কি আশ্চর্য হবেন? আপাত আশ্চর্যজনক মনে হলেও, এটাই সত্য। ১৪ শতকের সেই ধনকুবেরের কাছে বিল গেটসরাও কিছু না।

২০১২ সালে ইতিহাসের ধনী ব্যক্তিদের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে গবেষণা সংস্থা ‘সেলিব্রেটি নেট ওয়ার্থ’। এতে ওই ধনকুবেরকে বিশ্বের সর্বকালের সবচেয়ে ধনী মানুষের খেতাব দেয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষের তালিকায় শীর্ষে রেখেছে তাকে। তবে কে এই ব্যক্তি? বিশ্বের সর্বকালের সেরা ধনী ওই ব্যক্তির নাম মানসা মুসা। ‘মানসা’ তার নামের অংশ নয়; উপাধী। এর অর্থ সুলতান বা সম্রাট। মুসার পুরো নাম ‘প্রথম মুসা কিতা’। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির সুলতান হওয়ার কারণে তাকে মানসা খেতাবে ভূষিত করা হয়। মানসা ছাড়াও কমপক্ষে আরো ডজনখানেক উপাধী ছিল তার। মানসা মুসার জন্ম আনুমানিক ১২৮০ সালে এবং মৃত্যু ১৩৩৭ সালে। তিনি ছিলেন মালি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সান্দিয়াতা কিতার ভাগ্নে। ১৩০৭ সালে ৩২ বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি প্রথম আফ্রিকান শাসক, যিনি ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন।

মুসা মালির দশম মানসা। ২০১২ সালের জরিপ মতে, ৪০ হাজার কোটি ডলারের মালিক ছিলেন মুসা। যেখানে ২০১৭ সালে ফোর্বসের হিসাব মতে, বিল গেটসের নেট সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার।শুধু সম্পদ নয়, বিশাল একটি সেনাবাহিনীও ছিল তার, যাকে আজকের দিনে বলা যায়, ‘সুপারপাওয়ার আর্মি’। তার সেনাবাহিনীতে সদস্য ছিল দুই লক্ষাধিক, যার মধ্যে ৪০ হাজারই ছিল তীরন্দাজ। তখনকার দিনে এত সংখ্যক সেনাবাহিনী ছিল কল্পনাতীত। ক্ষমতায় আরোহণের পর আফ্রিকার ২৪টি বড় বড় শহর জয় করেছিলেন তিনি।মুসা ছিলেন একাধারে দক্ষ শাসনকর্তা, ধর্ম প্রচারক, শিক্ষা ও বিজ্ঞান অনুরাগী এবং অত্যন্ত দানশীল ব্যক্তিত্ব। ইউরোপকেও তিনি এতোটা প্রভাবিত করতে পেরেছিলেন যে তাদের আকা আফ্রিকার মানচিত্রে মুসার ছবি ব্যবহার করা হতো।

মুসার মক্কায় হজ করতে যাওয়ার একটি ঘটনা আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে খুবই আলোচিত। মালির এই শাসক মনে করতেন, ইসলামে প্রবেশ মানে হচ্ছে একটি সভ্য সাংস্কৃতিক দুনিয়ায় পদার্পণ। নিজের সাম্রাজ্যের মধ্যে ধর্ম প্রসারের কাজেই বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকতেন তিনি। ১৩২৪-২৫ সালের মধ্যে হজ করতে গিয়েছিলেন মুসা। ওই সময় তার সঙ্গে ছিল ৬০ হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ১২ হাজার ছিল সেবক।এসব সেবকের প্রত্যেকের সঙ্গে ছিল একটি করে সোনার বার। এছাড়া ৮০ থেকে ১০০টি উট ছিল বহর, যেগুলো প্রত্যেকটি প্রায় ১৪০ কেজি করে স্বর্ণ বহন করছিল। যাত্রাপথে কয়েকশ কোটি টাকা মূল্যের সোনা বিতরণ করেন তিনি। এত বেশি স্বর্ণ বিতরণ করেছিলেন যে পরের কয়েক বছর কায়রো, মক্কা এবং মদিনায় স্বর্ণের দাম একেবারেই নেমে গিয়েছিল। এতে অবশ্য শহরগুলোর অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বেড়ে গিয়েছিল মুদ্রাস্ফীতি। 

No comments:

Post a comment