Trending

Friday, 12 July 2019

১০০ দিনের প্রকল্পে নার্সারিতে গাছের চারা তৈরি



শিয়রে কড়া নাড়ছে জল সংকট। বাঁচাতে পারে একমাত্র গাছ।তাই দেরিতে হলেও মানুষের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। মানুষ বুঝতে পেরেছে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাব এবং যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে ভূ-গর্ভস্থ জলস্তর দ্রুত কমে যাচ্ছে। বাড়ছে পরিবেশ দূষণ।

এই অবস্থায় জল সংকট কে মাথায় রেখে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন এক অভিনব উদ্যোগ নিল। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে তারা নার্সারিতে গাছের চারা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। জেলার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০০০০ গাছের চারা তৈরীর নার্সারি তৈরি করা হবে। এছাড়া প্রতিটি ব্লকে গাছের চারা তৈরি নার্সারি হবে যেখানে এক লক্ষ গাছের চারা তৈরি হবে। 

চারা গুলিকে ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের করার পর সেগুলি সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রোপন করা হবে। এভাবে হিসেব করলে ২১৫ টি এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে প্রায় 21 লক্ষ ৫০ হাজার গাছের চারা তৈরি হবে। 

আর 23 টি ব্লকের নার্সারি গুলি থেকে তৈরি হবে ২৩লক্ষ গাছের চারা। এভাবে চললে প্রতিবছর নার্সারি গুলি থেকে ৪৪ লক্ষ্ ৫০০০০ গাছের চারা তৈরি হবে।

এই নার্সারি গুলি তৈরি করা হবে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে। কৃষ্ণচূড়া ,জারুল, শিশু গাছের চারা তৈরি করে রাস্তার ধারে লাগানো হবে। এরপর বর্ষাকালে আম, পেয়ারা, মুসুম্বি ইত্যাদি বনসৃজন এর জন্য দেওয়া হবে। এই সমস্ত বনসৃজন এর কাজে জৈব সার ব্যবহার করা হবে ।আর এই জৈব সার গুলি ১০০ দিনের প্রকল্পে গড়া ভার্মি কম্পোস্ট ইউনিট থেকে নিতে হবে। বাইরে থেকে নেওয়া যাবে না ।পঞ্চায়েত এবং ব্লক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন জেলা শাসক বিজয় ভারতি।

জেলা প্রশাসন তরফে জানানো হয়েছে কোথাও বেশি জমি পাওয়া গেলে সেখানে ভেষজ ও সুগন্ধি গাছের চাষ করা হবে। তুলসী, অ্যালোভেরা, সিত্রণেলা গাছের চারা রোপন করা হবে। পঞ্চায়েত ও ব্লকের সীমানা এলাকায় সুপারি ,নারকেল, করমচা ,জামরুল ,কাজু, কাঁঠাল গাছের চারা বসানো হবে। আবার এমন ফলের এবং সবজির গাছের চাষ করা হবে, যা স্কুলের মিড ডে মিল এর কাজে লাগবে।

এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক অরূপ কুমার চৌধুরী জানান বর্তমান সময় পরিবেশ অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বৃষ্টিপাত কমেছে ।পানীয় জলের সংকট বাড়ছে। এমতাবস্থায় এই পদ্ধতিতে বৃক্ষ রোপন করলে সমস্যা কিছু মিটতে 
 পারে।

No comments:

Post a comment