Trending

Sunday, 7 July 2019

যদি যাওয়া যেত হীরক রাজার দেশে



বাঙালির ঘরকুনো, ভাতঘুম প্রিয় ইত্যাদি যত বদনাম থাকুক না কেন, বাঙালির ভ্রমণ পিপাসার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উঠতে পারে এমন কিন্তু কেউ নেই। আর সে কারণেই তো খুঁজে খুঁজে নতুন নতুন জায়গা বের করে সেখানে নিজে ঘুরে এবং অপরকে ঘোরার জন্য আহ্বান জানানোয় বাঙালি ভীষণ পটু।

 আমাদের আজকের পর্বে আমরা এমন একটি স্থানের কথা বলব যে স্থানটি বিখ্যাত হয়ে আছে দুটি কারণে ।একটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং দ্বিতীয়টি হলো বিখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়।



আমাদের আজকের গন্তব্য পুরুলিয়া জেলার জয়চন্ডী পাহাড়। গুপী গাইন বাঘা বাইন সিনেমার সেই দৃশ্যটি মনে আছে, যেখানে উদয়ন পন্ডিত এর সঙ্গে গুপী গাইন বাঘা বাইন এর সাক্ষাত ঘটেছিল? সে দৃশ্যের শুটিং কিন্তু হয়েছিল এই জয়চন্ডী পাহাড় এ। তাই জয়চন্ডী পাহাড় ঘুরতে গেলে আপনি অনুভব করতে পারবেন সেই গুপী গাইন বাঘা বাইন এর রাজত্বে আপনি নিজে উপস্থিত হয়েছেন। যেন খুব কাছ থেকে আপনি গুপী গাইন বাঘা বাইন এর অদ্ভুত কীর্তিকলাপ দেখছেন।



জয়চন্ডী পাহাড় ভ্রমণ এ আসতে হলে হাওড়া থেকে পূর্বা এক্সপ্রেসে আপনি আসতে পারেন। নিকটবর্তী স্টেশন জয়চন্ডী পাহাড় স্টেশন। সেখানে নেমে হোটেলে ব্যাগপত্র রেখে বেরিয়ে পড়ুন পাহাড় পরিভ্রমণে। জয়চন্ডী পাহাড়ে উঠতে গেলে অনেক গুলি সিঁড়ি আছে। জানা গেল মোট 490 টি সিঁড়ি অতিক্রম করে পাহাড়ের মাথায় উঠতে হয়। পাহাড়ে উঠতে উঠতে আপনার চোখে পড়বে একটি ওয়াচ টাওয়ার ।ইচ্ছে হলে ওয়াচ টাওয়ারটি ঘুরেও দেখতে পারেন। একসময় এই ওয়াচ টাওয়ারটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।  যদিও এখন আর দর্শনীয় সেরকম কিছুই অবশিষ্ট নেই ওয়াচ টাওয়ার টিতে ।পুরোটাই কালের নিয়মে ভেঙে পড়ছে। তবুও একটা অতীতের স্পর্শ আপনি এখানে পেতে পারেন।




ওয়াজ টাওয়ারদেখা শেষ হলে আবার শুরু করুন পাহাড়ে ওঠার সিঁড়ি অতিক্রম করা। একের পর এক ধাপ পেরিয়ে পৌঁছে যান জয়চন্ডী পাহাড়ের উপরে। এখানে আছে মা চন্ডী মন্দির।  শুম্ভ নিশুম্ভ, চন্ড মুন্ড সহ বিভিন্ন অসুর নিধন করেছিলেন মা চন্ডী। সে কারণেই এই পাহাড়টির নাম ও জয়চন্ডী পাহাড়। এ মন্দিরের পাশে বিশাল বৃক্ষে প্রচুর ঢিল বাধা আছে। অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন মনস্কামনা পূরণের জন্য এখানে ঢিল বেঁধে যান। শোনা যায় এ মন্দিরটি অত্যন্ত জাগ্রত। এখানে সকল মনস্কামনা পূরণ হয়। ইচ্ছে হলে মন্দিরে পুজো দিতে পারেন ।মন্দিরের বাইরে থরে থরে সাজানো রয়েছে পূজা সামগ্রী। আপনার মনের মত করে মা চন্ডী কে আপনি পুজো দিতে পারবেন।



পরের দিন ভোরবেলা আপনি বেরিয়ে পড়তে পারেন পাহাড় ট্রেকিং এর জন্য। দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পর্যটক এখানে আসেন ট্রেকিং এর কারণে। মন ভাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এত চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করার ফলে আপনার শরীর  ও ঝরঝরে হয়ে যাবে। পাহাড়ের উপর থেকে গোটা পুরুলিয়া শহর থাকে দেখতে খুব সুন্দর লাগে। ভোরের বাতাসে ট্রেকিং করার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে নিতে পারেন পাহাড়ের মাথায়। পাহাড় থেকে নামার জন্য সে একই পথ অবলম্বন করার কোন প্রয়োজন নেই। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে একটি শর্টকাট রাস্তা রয়েছে নিচে নামার ।আপনি চাইলে সে রাস্তাটি ধরে জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় এর জন্য নামতে পারেন। নিচে নামার সময় ঘন জঙ্গল আপনাকে একটা অ্যাডভেঞ্চারাস ফিল অবশ্যই দেবে।



এই পাহাড়ের নিরাভরণ সৌন্দর্য পর্যটককে বহু বছর ধরে আকর্ষণ করে এসেছে। আজ ও সমানভাবে আকর্ষণ করছে। ঘরের কাছে পুরুলিয়ায় এমন সুন্দর নিদর্শন একবার চোখে না দেখলে কি চলে? পরিবারের সাথে হোক অথবা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে একবার জয়চন্ডী পাহাড়ের ট্রেকিং করে আসা যেতে পারে। সামনে একটা ছুটি দেখে একবার ঘুরে আসুন পুরুলিয়া জয়চন্ডী পাহাড় থেকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ,পাহাড় ট্রেকিং এর অ্যাডভেঞ্চার এসব তো আছেই ।তার সঙ্গে সেই বিখ্যাত গুপী গাইন বাঘা বাইন এর রাজত্বে যাওয়ার লোভ  কি সামলানো যায়?

No comments:

Post a comment