Trending

Saturday, 13 July 2019

গরম থেকে বাঁচতে কটা দিন কাটিয়ে আসি বরফের রাজ্যে



কলকাতার তীব্র গরম অস্বস্তিকর পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে বাঙালি কোথায় কোথায় না চলে যায়। কখনো পুরী, দিঘা ,দার্জিলিং আবার কখনো বা অজানার সন্ধানে। কিন্তু যত জায়গায় যাওয়া যাক না কেন ভূস্বর্গের থেকে ভালো তো আর কিছু হয় না। আজ আমরা চলেছি সেই সাদা কাশ্মীরের সন্ধানে। যা লাদাখ নামে পরিচিত।



ভারতের উত্তরে হিমালয়ের কোলে অবস্থিত জম্মু-কাশ্মীর। এ রাজ্যের  উত্তর ও পূর্ব দিকে চীন এবং পশ্চিমে আছে পাকিস্তান। শ্রীনগর এখানকার গ্রীষ্মকালীন রাজধানী এবং জম্মু হলো শীতকালীন রাজধানী। পুরো এলাকাটি তিনটি অঞ্চলে নিয়ে গঠিত। জম্মু, কাশ্মীর উপত্যকা এবং লাদাখ। আজ আমরা চলেছি সেই লাদাখের নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে।



লাদাখ আসতে হলে কলকাতা থেকে ট্রেনে দিল্লি এবং সেখান থেকে সিমলা মানালি হয়ে লেহ তে আপনি আসতে পারেন। তবে এই পথে আসতে সময় একটু বেশি লাগে ।তাই আপনি যদি আপনার ভ্রমণকে উপভোগ করতে চান এবং অ্যাডভেঞ্চারস কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে চান তাহলে এই পথে আপনি ভ্রমণ করুন। এই পথে আপনাকে বেশ কয়েকটা 15 হাজার ফিট উঁচু পাস পার হয়ে যেতে হবে। তবে একটা কথা খেয়াল রাখবেন মে থেকে অক্টোবর মাত্র ছয় মাস এই রুট টা খোলা থাকে পর্যটকদের জন্য। তবে ইচ্ছে হলে আপনি বিমান পথে আসতে পারেন।



লাদাখ অত্যন্ত দুর্গম এবং শীত প্রবণ একটি এলাকা। শীতকালে এখানে তাপমাত্রা অনেক নিচে নেমে যায়। মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ঠান্ডা একটু কম থাকে এবং আবহাওয়া মনোরম থাকে। তাই এই সময় লাদাখ এ  পর্যটকদের ভিড় অত্যন্ত বেশি থাকে। যদি আপনি নভেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে লাদাখ আসেন ,সেসময় শীতের মাত্রা অনেক বেশি এবং বরফ জমে অনেক রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় তাই সে সময়ে না আসাই ভাল।



সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 1500 ফিট উচ্চতায় অবস্থিত লাদাখ। তবে অনেক স্থান আরো বেশী উচু। এখানে সব সময় মারাত্মক ঠান্ডা থাকে। লাদাখ আসলে একটি মরুভূমি। তাই গাছপালা এবং বৃষ্টিপাত এখানে খুবই কম। সেই সঙ্গে অক্সিজেনের লেভেল বাতাসে অনেকটাই কম। তাই যারা সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকেন যেমন কলকাতার মানুষজন তাদের একিউট মাউন্টেইন সিকনেস বা A M S দেখা দিতে পারে। এই রোগের লক্ষণ গুলি হল ,মাথা ঘোরা ,বমি বমি ভাব, দুর্বল লাগা, মাথাব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট। তবে এতে ভয় পাবার কিছু নেই। যাবার আগে কিছু পদ্ধতি এবং যাবার পর কিছু নিয়ম মেনে চললে এই রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।



যেমন লে তে পৌঁছে হোটেলে প্রথম দুটো একটা দিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম করুন। ঘন ঘন জল খান ।কারণ  জল আমাদের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কে বজায় রাখে । ওখানকার বাজারে মিনি অক্সিজেন ক্যান পাওয়া যায় ।যদি প্রয়োজন মনে করেন সেটি কিনে সঙ্গে রাখতে পারেন ।তবে এরপরেও যদি কেউ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন তাকে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত। এছাড়া আর এক ধরনের ট্যাবলেট পাওয়া যায় যা আমাদের দেহে অক্সিজেনের মাত্রা কে বাড়ায়। তবে সব থেকে ভালো হয় যাওয়ার আগে একবার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নিয়ে যান।যেহেতু লাদাখ  অত্যন্ত উঁচু এবং দুর্গম একটি এলাকা এবং অতিরিক্ত বরফের কারণে ছমাস প্রায় সবকিছুই বন্ধ থাকে ,তাই লাদাখ যাবার আগে ভালো করে সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয় জেনে নেওয়াটাই ভালো। লাদাখ ভ্রমণের জন্য শারীরিকভাবে ফিট থাকাটা খুব দরকার। যাদের হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট আছে তাদের না যাওয়াই ভালো।





এটি একটি সীমান্তবর্তী এলাকা ।তাই এখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা কড়া কড়ি আছে। কিছু দূর  অন্তর অন্তর আর্মি ক্যাম্প এবং রাস্তায় আর্মিদের ট্রাক চলাচল করতে আপনি দেখতে পাবেন। তাই যে হোটেলে উঠবেন সে হোটেলের ঠিকানা, ফোন নম্বর, পাসপোর্ট ,আইডেন্টি কার্ড সব সময় সঙ্গে রাখবেন।



লাদাখ ভ্রমণের বিশেষ কিছু সতর্কতা এবং নিয়মাবলী আজকের পর্বে আমি তুলে ধরলাম ।ঘুরতে যেতে তো আমাদের সকলেরই ভালো লাগে ।তবে ঘুরতে যাওয়ার সময় যাতে কোনো বিপদ না আসে এবং আমাদের আনন্দে যাতে বাধা না পড়ে সে কারণে কিছু সতর্কতাঃ মেনে চলা টাই উচিত। যেহেতু আমরা উষ্ণ প্রবণ এলাকার মানুষ তাই অত্যন্ত শীত প্রবন কোন এলাকায় গিয়ে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অত উঁচুতে নিজের শরীরকে সুস্থ রাখাটা খুবই জরুরি ।কারণ যদি আপনি অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে আপনি ভ্রমণের আনন্দ নিতে পারবেন না এবং ভ্রমণ আপনার আনন্দের অভিজ্ঞতা না হয় একটি বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে। তাই কোথাও যাওয়ার আগে সেই জায়গাটি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়াটা খুব  আবশ্যক। আজকের পর্বে সেই বিশেষ দিক গুলি আমি তুলে ধরলাম পরবর্তী কোন পর্বে ভ্রমণ এবং সাইড সিন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

No comments:

Post a comment