Trending

Saturday, 13 July 2019

এশিয়ার প্রথম চিড়িয়াখানা





আমাদের ভারত বর্ষ তথা বাংলার বুকে এখনো এমন অনেক নিদর্শন আছে যা আমাদের গৌরবান্বিত করার পক্ষে যথেষ্ট। কালের প্রবাহে সেগুলির অনেকটাই হয়তো ধ্বংস হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো যতটুকু অবশিষ্ট আছে তাও কিছু কম নয়। অতীতের ভগ্ন অবস্থার মধ্যে থেকে অতীতকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দই আলাদা তাই না। সে তো আর বর্তমানের মতো সংরক্ষিত, সুসজ্জিত অবস্থায় আমাদের সামনে ধরা দেবে না। তা কে কালের অতল থেকে খুঁজে বের করতে হবে। আমরা অনেকেই হয়তো জানি না আমাদের কলকাতার বুকে ব্যারাকপুরে তৈরি হয়েছিল এশিয়ার প্রথম চিড়িয়াখানা। শুনতে অবাক লাগছে? হ্যাঁ এটাই সত্যি। আজকের পর্বে আমরা জেনে নেব সেই চিড়িয়াখানার কাহিনী। 



ব্যারাকপুরে চিড়িয়ামোরে 1802-03 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল এই চিড়িয়াখানা। ইংরেজদের বিভিন্ন খেয়াল এর মধ্যে এটিও একটি খেয়াল ছিল বলা যেতে পারে। সে সময় গোটা বিশ্বে দর্শকদের জন্য চিড়িয়াখানা ছিল মাত্র তিনটি। আমরা হয়তো অনেকেই জানি লর্ড ওয়েলেসলি বাংলার গভর্নর জেনারেল ছিলেন 1798 থেকে 1805 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।লর্ড ওয়েলেসলির মনে হয়েছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ গুলিতে যে সমস্ত পশু পাখি পাওয়া যায় তাদেরকে সঠিক ভাবে চেনা শোনার জন্য ,এবং পরীক্ষামূলক ভাবে তাদের কে জানার জন্য একটি বিশেষ স্থান দরকার । আর যেমন ভাবা তেমনি কাজ। শুরু হয়ে গেল ব্যারাকপুর চিড়িয়ামোরে চিড়িয়াখানা তৈরি করার উদ্যোগ।সেই কারণে নির্মাণ করা হয় এই চিড়িয়াখানা । অনেক খুঁজে খুঁজে বিভিন্ন জায়গা থেকে পশু পাখি নিয়ে এসে রাখা হয় এখানে। কিন্তু লর্ড ওয়েলেসলি 1805 সালে ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় চিড়িয়াখানার গবেষণা মূলক কাজ কর্ম। তবে চিড়িয়াখানা আরো 75 বছর চলেছিল।



কলকাতার ইতিহাস একটু ভালো করে ঘাটলে দেখা যায়, এখানে বিভিন্ন প্রজাতির জীব ছিল ।বিভিন্ন পাখি যেমন সারস, উটপাখি, পায়রা, ও আরও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। ভাল্লুক,বাঘ এবং নানা প্রজাতির পশু ও এখানে রাখা হয়েছিল।এরপর 1817 থেকে 1819 এর মধ্যে লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস এর আমলে নির্মাণ করা হয় একটি নতুন পাখি শালা। এরপর 1822 সালে একটি নতুন পশুশালা নির্মাণ করা হয়। 1877 পর্যন্ত বাঘ-সিংহের এই খাঁচাগুলো ছিল। 2013 থেকে 2014 সালের মধ্যে পাখি শালার ভগ্নদশা একদম সম্পূর্ণ হয়ে যায়। আজ আর পশুশালার বাঘ-সিংহের খাঁচাগুলো ও অবশিষ্ট নেই। যদিও আজ ব্যারাকপুর চিড়িয়ামোরে ওয়ারেন হেস্টিংসের চিড়িয়াখানা আর কোন চিহ্নই দেখা যায় না। 1830 সালে লর্ড আমহার্স্ট এর পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায়, যে এখানে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সাদা বাঘ, তিব্বতি বাইসান ,ভাল্লুক, লেপার্ড, বেবুন, সাদা বাদর ,জিরাফ ইত্যাদি



কিন্তু ইংরেজদের এই চিড়িয়াখানা বানানো এবং পশু পাখির সংগ্রহ কলকাতার মানুষ ঠিক কিভাবে নিয়েছিল সেটা জানবার ইচ্ছা তো হতেই পারে। সেটা জানার  ও উপায় আছে। 1831 সমাচার দর্পণ এ একটি রিপোর্ট বেরিয়েছিল জাতে জানা যায় ইংরেজদের এই নয়া উদ্যোগ ব্যারাকপুরের চিড়িয়াখানা জীবজন্তু বাঙ্গালীদের কেমন লেগেছিল। এরপর 1876 সালে রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড উদ্বোধন করেন আলিপুর চিড়িয়াখানার। তখন লর্ড লিটন ব্যারাকপুর চিড়িয়াখানায় থাকা অবশিষ্ট পশুপাখি গুলিকে পাঠিয়ে দেন আলিপুর চিড়িয়াখানা। বিভিন্ন পশু পাখির সঙ্গে ছিল একটি কচ্ছপ । পরেএর নাম রাখা হয়েছিল আদিত্য। 2006 সালে আলিপুর চিড়িয়াখানায় এটি মারা যায়। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায় ব্যারাকপুরের হেস্টিংস চিড়িয়াখানার ইতিহাস।



আজকের কর্মব্যস্ত ব্যারাকপুর চিড়িয়ামোড় কে দেখে সত্যি বোঝার উপায় নেই ,তাই না এক শতক আগে এখানে এক বিশাল পশুশালা এবং পক্ষীশালা নির্মাণ করা হয়েছিল। কালের প্রবাহ এমন ই ।কালের প্রবাহে সবকিছুই বয়ে চলে  সময়ের স্রোতে। যাইহোক এখনো যদি ব্যারাকপুর চিড়িয়ামোরে খোঁজ করা যায়, তাহলে সেই পুরনো চিড়িয়াখানার কিছু ভগ্ন দেওয়াল চোখে পড়তে পারে ।সেটাই বা কম কিসে।

No comments:

Post a comment