Trending

Tuesday, 2 July 2019

চলো যাই ফুলের দেশে


ফুল এমন একটা জিনিস যে তাকে পছন্দ করে না এমন কেউ নেই। ফুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সৌরভে আমাদের মন পুলকিত হয়। যদি এমন হতো কোন এক দিনের ছুটিতে আমরা ছুটে চলে যেতে পারতাম সেই ফুলের রাজ্যে যেখানে চারপাশে শুধুই বিভিন্ন রঙের ফুল তাদের রূপ এবং সৌরভে মাতিয়ে রেখেছে। এত  ফুলের মাঝখানে নিজেকে যেন রূপকথার দেশের সেই রানীর মত মনে হয়। তাহলে যাবেন নাকি সে ফুলের দেশের সন্ধানে?



আজ আমরা যে জায়গাটি সম্পর্কে আলোচনা করতে চলেছি সে জায়গাটি কলকাতার খুবই কাছে। এই জায়গাটি সাধারণের মধ্যে অসাধারণ একটি জায়গা। আর তার অসাধারনত্ব লুকিয়ে আছে ফুলের মাঝে। স্থান টির নাম ক্ষীরাই। হাওড়া থেকে মেদিনীপুর লোকাল ট্রেনে করে ক্ষীরাই পৌঁছানো যায়। আসতে খুব বেশি সময় লাগে না। ক্ষীরাই পৌঁছে  গ্রাম্য স্টেশনের এর মতন স্টেশনের পাশ দিয়ে রেললাইনের পাশ ধরে আস্তে আস্তে এগিয়ে চলুন ফুলের উপত্যকার দিকে। 




শহুরে প্রকৃতি গ্রাম্য প্রকৃতির মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করতে চলেছে রূপকথার দেশে। সেই পথের পথিক যদি হতে চান তাহলে জলের বোতল এবং কিছু শুকনো খাবার সঙ্গী করে বেরিয়ে পরুন ক্ষীরাই এর উদ্দেশ্যে। রূপকথার সাম্রাজ্যে তো আর আধুনিক যুগের খাবার দাবারের ব্যাবস্থা নেই। তাই খাবার এবং জলের ব্যবস্থা আপনাকে নিজেকে  করে নিয়ে যেতে হবে।



ক্ষীরাই আসার সব থেকে উপযুক্ত সময় হচ্ছে শীতকাল। কারণ বছরের অন্যান্য সময়ের মধ্যে শীতকালেই সব থেকে বেশি ফুলের চাষ হয়। আর বিভিন্ন ধরনের ফুলের চাষ হয়। এখানে না তো কোন পাহাড় আছে ,না আছে কোন ঝর্ণা, আর না তুষারপাতের মৃদু হিমশীতলতা এখানে আপনাকে মুগ্ধ করার জন্য অপেক্ষা করছে। এখানে আছে দিগন্তবিস্তৃত ফুল বাগান। এই ফুলের মাঝখানে আপনি নিজেকে হারিয়ে ফেলতে পারেন।



এই ফুলের উপত্যকায় একসঙ্গে আপনি অনেক ফুলের সমাবেশ দেখতে পাবেন ।এখানে যেমন আছে বিভিন্ন রঙের গাঁদা, মোরগঝুঁটি, নাম না জানা আরও অনেক রকমের ফুল। যে ফুলের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। অবশ্য চন্দ্রমল্লিকা কে আপনি এই ফুলের ভিড়ে পাবেন না। তাকে খুঁজতে গেলে আর একটু কষ্ট করতে হবে ।



ফুলের উপত্যাকার মাঝ দিয়ে হেটে চলুন চলে আসুন কংসাবতী নদীর পারে। তার ওপারে রয়েছে চন্দ্রমল্লিকার রাজত্ব। ফুলের রাজ্য ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে গেলে কংসাবতী নদীর শান্ত শীতল হাওয়া আপনাকে সজীবতা দান করবে এবং নতুন করে ফুলের বাগানে ঘোরার এনার্জি দেবে।কংসাবতী পাড় ধরে এবার যাওয়া যাক চন্দ্রমল্লিকার রাজ্যে। 



এখানেও সারা মাঠ জুড়ে ফুটে রয়েছে অজস্র সাদা চন্দ্রমল্লিকা। মাঝে মাঝে উকি দিচ্ছে হলুদ কিছু মুখ। তবে এখানে সাদা চন্দ্রমল্লিকা চাষ বেশি হয় ।কারণ সাদা চন্দ্রমল্লিকার চাহিদা নাকি অনেক বেশি।



আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে এই ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার এর এত ফুল যায় কোথায়? আমরা নিজেকে রূপকথার রাজা রানী ভেবে নিলেই তো আর সত্যি সত্যি এটা রূপকথার দেশ নয়। আর শুধুমাত্র শখের জন্য এত জায়গা জুড়ে এত যত্ন করে কেউ ফুল চাষ করে ও  না। হ্যাঁ আমরা যে গাঁদা দেখে এসেছিলাম, সেই ফুলগুলি বেশিরভাগই যায় কলকাতা শহরে । প্রতিদিন এখান থেকে ফুল যায় হাওড়ার জগন্নাথ ঘাটে।



লা যেতে পারে আমরা যে ফুল কিনি তার অনেকটাই আসে ক্ষীরাই থেকে। কিন্তু এই  চন্দ্রমল্লিকার কিন্তু ব্যাপারই আলাদা।সে কিন্তু ট্রেনে করে কোথাও যায় না ।সোজা প্লেনে করে চলে যায় ‌ মহারাষ্ট্র ,পুনা, ব্যাঙ্গালোর বিভিন্ন রাজ্যে। হ্যাঁ বাইরে রপ্তানি হয় এখানকার চন্দ্রমল্লিকা। 


কাগজের পেটিতে  বিশেষ ভাবে সংরক্ষিত করে এ ফুল অর্ডার অনুযায়ী পৌঁছে যায় খরিদ্দার এর কাছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এমনকি দিল্লি থেকে অর্ডার আসে এখানকার ফুলের। সে অর্ডার অনুযায়ী এই ফুল প্রথমে যাবে দমদম এবং সেখান থেকে প্লেনে করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে।



ফুলের সাম্রাজ্যের ঠিক মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে কংসাবতী বা কাঁসাই নদী। নদীর সতেজ হাওয়া, মনোরম পরিবেশ, ফুলের সাম্রাজ্য সমস্ত কিছু অদ্ভুত প্রশান্তি দেয়। তাই ছুটির দিনটা বাড়িতে শুয়ে বসে টিভি দেখে সময় নষ্ট না করে ঘুরে আসুন হাতের কাছের এই ফুল সাম্রাজ্যে থেকে। আমার কথায় নয় আপনি সত্যিই নিজেকে রুপকথায় রাজ্যের সেই রাজা রানীর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবেন।



No comments:

Post a comment