Trending

Thursday, 11 July 2019

ঝর্ণার জলধারায় ভিজুক মন প্রাণ



পাহাড় সমুদ্র জঙ্গল কত কিছু আছে আমাদের প্রকৃতি রানীর কোলে। শুধু একবার ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছে হলেই হলো। কোথাও একটা বেরিয়ে পড়া যায় ।তবে পাহাড় আর নদীর যে গল্প, সেই গল্প কিন্তু অনবদ্য। পাহাড়ের উপর আছড়ে পড়া  অভিমানী নদী সৃষ্টি করে অনিন্দ্য সুন্দর ঝরনা। তৈরি হয় আরেক প্রাকৃতিক দ্রষ্টব্য জলপ্রপাত।তাই আজকে আমরা ঘুরে আসব সেই জলপ্রপাতের জলধারায়  নিজেদের নবীন করে তুলতে। আজ আমাদের গন্তব্য মধ্যপ্রদেশের ধুয়াধার জলপ্রপাত।



নর্মদা নদীর উপর সৃষ্ট  ধুয়াধার জলপ্রপাত সত্যি নিজের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যে অনন্যা। সুউচ্চ পর্বত থেকে আছড়ে পড়া জলকণা নিচে পড়ার সময় জল মিশ্রিত  ধোঁয়া সৃষ্টি করে। সে কারণে জল মিশ্রিত এই ধোয়ার জলপ্রপাত এর নাম ধুয়াধার ‌। এই ধুয়াধার ফলস জব্বলপুর থেকে 25 কিলোমিটার দূরে। গাড়ি থেকে নেমে বেশ কিছুটা রাস্তা হেঁটে আসতে হবে। তবে সোজা রাস্তায় নয়, নিচের দিকে ।জলপ্রপাত দেখতে হলে আপনাকে বেশ কিছুটা রাস্তা নিজে নিজেই নিচের দিকে হেঁটে নামতে হবে। অবশ্য রাস্তার দু'পাশে আপনার মনোরঞ্জনের জন্য পসরা সাজিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। ইচ্ছে হলে আপনি সেখান থেকে কোন জিনিস কিনে নিতে পারেন নিজের ব্যক্তিগত সংগ্রহের জন্য ।তবে এখানে পসরা র  বেশিরভাগ জিনিসই মার্বেল পাথরের তৈরি শিব লিঙ্গ এবং অন্যান্য সামগ্রী। আমরা জানি নর্মদা নদী পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে চলেছে। অর্থাৎ এটি পশ্চিম বাহিনী নদী। সাধারনত, ধুয়াধার ফলস দেখতে পর্যটকেরা আসেন নর্মদা নদীর উত্তরের পাহাড় থেকে। তবে যদি আপনি আরো উপর থেকে আরও সুন্দরভাবে এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তার জন্য রয়েছে রোপ ওয়ে র বন্দোবস্ত।



সারা বছরই ধুয়াধার ফলস পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে ।তবে একে সবথেকে সুন্দর লাগে বর্ষাকালে ।কারণ স্বাভাবিকভাবেই বর্ষাকালে নদীর জল পরিপূর্ণ থাকে তাই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে যদি আপনি ধুয়াধার ফলসের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মার্বেল রক এর সৌন্দর্য দেখতে চান তাহলে আপনাকে আসতে হবে 15 অক্টোবরের পর। কারণ সারাবছর ধুয়াধার ফলস পর্যটকদের জন্য খোলা থাকলেও নদীর ঘাটে মার্বেল রক নৌকা বিহার কিন্তু 15 ই জুন থেকে 15 ই অক্টোবর অব্দি বন্ধ থাকে। মার্বেল রক এর ভিতর দিয়ে নর্মদা নদীর ওপর নৌকা বিহার পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় জিনিস।  তাই যদি আপনি এর মাঝখানে আসেন তাহলে এই নৌকা বিহার থেকে আপনাকে বঞ্চিত থাকতে হবে। যদি জব্বলপুর এর এই দুটি স্থান অর্থাৎ ধুয়াধার ফলস এবং মার্বেল রক একসঙ্গে দর্শন করার ইচ্ছা আপনার থাকে তাহলে 15 ই অক্টোবর এর পরেই আসুন। না হলে মার্বেল রকসের  ভেতর দিয়ে নৌকা বিহার না করতে পারার আক্ষেপ হয়তো সারা জীবন আপনাকে কষ্ট দেবে। 



যাবতীয় নিয়মাবলী পর দর্শন করুন ধুয়াধার ওয়াটার ফলস। 30 মিটার উঁচু থেকে নর্মদা নদী আছড়ে পড়ছে মার্বেল রকের ওপর এবং সৃষ্টি করছে অপূর্ব সুন্দর এই জলধারা জলপ্রপাত। এখান থেকে আছড়ে পড়ার পর নর্মদা নদীর মার্বেল রক এর  ভিতর  দিয়ে পশ্চিম বাহিনী হয়ে প্রবাহিত হয়েছে। প্রতিবছর শারদ পূর্ণিমায় নর্মদা নদীতে এক মহোৎসব পালিত হয়। এটি নর্মদা মহোৎসব নামে বিখ্যাত। যদি আপনি সেই সময় নর্মদা নদীর উপর জলপ্রপাত দর্শনে আসেন তাহলে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সারা জীবন আপনার মনের মনিকোঠায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। পূর্ণ চন্দ্র রাতে সাদা মার্বেল রকের সৌন্দর্যের সঙ্গে ধুয়াধার জলপ্রপাত এর ধোয়া মিশ্রিত জল ধারা আপনাকে স্বর্গীয় অনুভূতি দেবে।



মধ্যপ্রদেশের ধুয়াধার জলপ্রপাত দর্শন করতে প্রত্যেক বছর বিদেশ থেকে বহু পর্যটক আসেন। কিন্তু আমরা পাহাড় নদী সমুদ্র দেখতে গিয়ে হয়তো অনেক সময় এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভুলে যাই। আর সত্যি কথা বলতে গেলে এটি তো ভূমি এবং জলের মিশ্রিত রূপ ।যেখানে পাহাড় এর সঙ্গে নদীর এক আত্মিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এই দুই এ মিলে তৈরি করে এক অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক নিদর্শন যা সত্যিই আশ্চর্য। এবং সৌন্দর্য তো বলার অপেক্ষা রাখে না।তাহলে ছুটিটা এ বছরেই কাটিয়ে আসি হাতে এখনো বেশ কিছুটা সময় আছে চটপট প্ল্যান রেডি করে ফেলুন কবে দেখতে যাবেন জব্বলপুর এর বিখ্যাত এদু আধার জলপ্রপাত।



No comments:

Post a comment