Trending

Monday, 12 August 2019

প্রতিবাদ করার কোনও বয়স হয় না



78 বছর পর আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে লড়তে এক বৃদ্ধা বলে উঠলেন আর পড়ে পড়ে মার খাবো না। এবার নিজের মতো করে জীবনটা কাটাবো। স্বামীর চোখ রাঙানি, চিকিৎসার দায়িত্ব না নেওয়া, আবেগের খোঁচা কোন কিছুতেই তিনি তার সিদ্ধান্ত বদল করেননি।

80 পেরোনো  স্বামী স্ত্রীর সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন সহ তাকে ইএম বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর বৃদ্ধা তার স্বামীর সঙ্গে ঘরে আর ফেরেননি। মেয়েদের সঙ্গে মেয়েদের বাড়িতেও যাননি। মেয়েদের ব্যবস্থাপনায় সোজা চলে গেছেন দক্ষিণ কলকাতার একটি বৃদ্ধাশ্রমে।

মায়ের নিরাপত্তাজনিত কারণে বৃদ্ধার দুই মেয়ের সল্টলেকের মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কমিশনের প্রতিনিধিরা হাসপাতালে ও  গিয়েছিলেন। মেয়েদের অভিযোগ সচ্ছল অভিজাত পরিবারে উচ্চশিক্ষিত বৃদ্ধার ওপর নিয়মিত অত্যাচার চালাতেন তার বাবা ।ছোট থেকে তারা এটাই দেখে এসেছেন। এর পর মেয়েরা বড় হয়। তাদের বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু মায়ের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় না। মেয়েরা মাকে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলেও মা কখনোই বাবাকে ছেড়ে তাদের সঙ্গে যেতে চাননি।

বর্তমানে বৃদ্ধা কিডনির অসুখে আক্রান্ত। তার নিয়মিত ডায়ালিসিস চলে ।তার চিকিৎসার খরচ দেবেন না বলে তার ওপর অত্যাচার চালান তার স্বামী। সম্প্রতি আরও একটি রোগে আক্রান্ত হন। সেই অবস্থাতে ও তার স্বামী তার উপর মারধর করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে বাধ্য হয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান। বৃদ্ধার এক মেয়ে থাকে মুম্বাইতে। অন্য মেয়ে ইংল্যান্ডে ।মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তারা কলকাতায় আসে। মায়ের অনুমতি দিয়ে তারা মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হন। বৃদ্ধার স্বামীকে  এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন কথা না শুনলে মারি।  এটা কে অত্যাচার বলে না। আপনারা এখন এসব বলে ঘর ভাঙার চেষ্টা করেন। তার স্ত্রী তার সঙ্গে থাকতে চান না শুনে তিনি স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন। যদিও পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ওই বৃদ্ধ এখনো নিজের এবং তার স্ত্রীর  অসুখের সমস্ত খরচা অফিস থেকে  পান। এছাড়া তিনি হুমকি দেন যে তিনি চিকিৎসার কাগজপত্রে সই করবেন না। অবশেষে কমিশনের জোরাজুরিতে তিনি সই করতে বাধ্য হন।

বৃদ্ধা জানিয়েছেন সারাজীবন অত্যাচার সহ্য করেছি বলে এখনো করে যাবো এমন তো কোন কথা নয়। মরেই যাচ্ছিলাম। বেঁচে গিয়ে মনে হল আমার জীবনটা খুব দামী। দেখা যাক জীবনটাকে নিজের মতন করে কাটাতে পারি কিনা। এবারেও মেয়েরা থাকি সঙ্গে নিয়ে যেতে চায় কিন্তু তিনি মেয়েদের সঙ্গে  না গিয়ে কলকাতার এক বৃদ্ধা বাসে চলে যান। ‌ অপরাধী স্বামীর কোন শাস্তি হবে না এই নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তিনি জানান এই বৃদ্ধ বয়সে হঠাৎ করে একা হয়ে যাওয়া এটা কি কোন শাস্তি নয়?

No comments:

Post a Comment