Trending

Thursday, 29 August 2019

ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ার আরও অসুস্থ রোগী




নদিয়া জেলা চাপড়ার এলেম নগর অঞ্চলের বাসিন্দা জেসমিনা মল্লিক 8 মাসের অন্তঃসত্ত্বা। 20 শে আগস্ট তাকে কৃষ্ণনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রক্তাল্পতা থাকার কারণে পরের দিন অর্থাৎ 21 শে আগস্ট তাকে রক্ত দেওয়া হয়। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ রক্ত দেওয়ার পর তার স্বামী ইমরান মল্লিক খেয়াল করেন যে জেসমিনা কে এ পজেটিভ গ্রুপের রক্ত দেওয়া হচ্ছে। যদিও জেসমিনার  ব্লাড গ্রুপ ও পজেটিভ।

তিনি সেই মুহূর্তে রক্তদান বন্ধ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান ।কিন্তু হাসপাতাল থেকে জানানো হয় ঠিক গ্রুপের রক্ত জেসমিনা কে দেওয়া হচ্ছে। অবশেষে ইমরানের জোরাজুরিতে আরো একবার জেসমিনার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয় ।তখন দেখা যায় জেসমিনার রক্ত ও পজেটিভ ।তাকে এতক্ষণ ভুল গ্রুপের রক্ত দেয়া হচ্ছিল।

এরপর সেদিন রাতেই জেসমিনের গর্ভস্থ শিশুটি মারা যায়। ঠিক  কি কারণে শিশুর মৃত্যু হয়েছে তা জানার জন্য শিশুটির দেহ এবং জেসমিনা কে পাঠানো হয় এনআরএস হাসপাতালে। চিকিৎসকরা আশংকা করেন ভুল রক্ত দেয়ার কারণে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। তাদের আশঙ্কা সত্যি হলো। বর্তমানে জেসমিনের ডায়ালাইসিস চলছে ।কিন্তু তাকে নেফ্রোলজি বিভাগের পরিবর্তে এখনো গাইনোকোলজি বিভাগে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সুপার জানান নেফ্রোলজি বিভাগের  বেড না থাকায় তাকে গাইনোকলজিক্যাল বিভাগে রাখা হয়েছে। জেসমিনের পরিবারের দাবি যদি ঠিক বিভাগে তাকে রাখা না হয় তাহলে সঠিক চিকিৎসা সে কী করে পাবে।

এদিকে শক্তি নগর হাসপাতালে তাকে ভুল রক্ত দেয়ার অভিযোগে তেইশে আগস্ট সেন্টু শেখ নামে এক মেডিক্যাল টেকনিশিয়ানকে শোকজ করা হয়েছিল ।কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার কোনো শাস্তি হয়নি। সেদিনের পর থেকে  সে হাসপাতালেও আসছেনা।

নদীয়া জেলার স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের  দাবি পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে সেন্টুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি হচ্ছে ।কারণ সে ব্লাড ব্যাংকের চুক্তিভিত্তিক কর্মী। স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী নয়। ডিকটি হেলথ এন্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি তাকে নিয়োগ করেছে। সংস্থাটির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন জেলাশাসক। তাই সেন্টুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আগে তার ফাইল চেয়ে পাঠানো হয়েছে ।অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।

সেভ ডেমোক্রেসি সংগঠনের প্রতিনিধিরা এন আর এস এ গিয়ে  জেসমিনার সঙ্গে দেখা করেন। সংগঠনের তরফে মিতা চক্রবর্তী বলেন এখানে রোগের চিকিৎসা সঠিকভাবে হচ্ছেনা ।আমরা রোগীর ওপর হওয়া অন্যায় এবং তার গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি ব্যবস্থা নেব। 

No comments:

Post a comment