Trending

Sunday, 22 September 2019

পুত্র বধুর উপর অকথ্য অত্যাচার প্রাক্তন বিচারপতির



 প্রায়ই শোনা যায় পণের দাবিতে মেয়ের উপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন অত্যাচার করছে,সে ক্ষেত্রে আমরা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলি।গত কয়েক ঘণ্টা ধরে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় করা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে একজন ভদ্রলোক এক মহিলাকে টেনে হিঁচড়ে কখনো মাটিতে ফেলে দিচ্ছেন, কখনো সোফায় আছড়ে ফেলে মারধর করছেন।ফুটেজে  ভদ্রলোকের স্ত্রী এবং ছেলে কেও  দেখা যাচ্ছে,এমন কি দেখা যাচ্ছে একটি  ছোট দুধের শিশুকে,যে তার মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।

 কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা এই বয়স্ক ভদ্রলোকটি কোন অশিক্ষিত পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর মানুষ নন,তিনি তামিলনাড়ুর হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক নুটি রামমোহন রায়।যার হাতে দেশের বিচার ব্যবস্থা, হয়তো একসময় অনেক বধু হত্যা এবং বধু নিগ্রহের বিচার করতে হয়েছে,তাকে নিজের বাড়িতে এমন হিংসার আগুন জ্বালাতে দেখে গোটা দেশের মানুষ স্তব্ধ।

 নিগৃহীতা মেয়েটির নাম সিন্ধু শর্মা।নুটি রামমোহন রায় ও জোনাকির ছেলে নুটি বশিষ্ঠ এর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সিন্ধুর।বিয়ের পর থেকে পনের জন্য  অত্যাচার চলতো।এই ভিডিও ফুটেজটি এপ্রিল মাসের,যেখানে দেখা যাচ্ছে সিন্ধুকে তার শ্বশুর মারতে মারতে খাট থেকে টেনে মাটিতে ফেলছে, আবার মাটি থেকে সোফায় আছড়ে  ফেলছে, ফুটেজে দেখা যাচ্ছে মাকে বাঁচাতে ছুটে আসছে ছোট্ট শিশুটিও।

এপ্রিল মাসে ওই গৃহবধূ অভিযোগ দায়ের করেন স্বামী শ্বশুর-শাশুড়ি বিরুদ্ধে।কিন্তু এপ্রিল মাস থেকে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কারণ তার সারা গায়ে তখন ছিল দগদগে ঘা। অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।সেখান থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।তখনই প্রকাশ্যে আসে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ।

মামলা দায়ের হওয়ার এক সপ্তাহ পরেই দুই নাবালিকা কন্যাসন্তানের কাস্টডি  চান সিন্ধু, কারণ তার ছোট মেয়ে তখনও দুধের শিশু।সমাজকর্মী অচ্যুত  রাও  এর  হস্তক্ষেপে ছোট মেয়েকে কাছে পেলেও বড় মেয়েকে কাছে পাননি তিনি,পরে অবশ্য আদালত তার বড় মেয়েকে ও তার কাছে দেবার কথা বলে।সিন্ধু জানান তার মেয়েদের সামনেই তাকে অত্যাচার করা হতো। 

প্রাক্তন বিচারপতি জানিয়েছেন,তাঁরা সিন্ধুর উপর কোনদিনই কোন অত্যাচার করেননি। সিন্ধু মানসিক অবসাদে ভুগতো।আত্মহত্যা করার চেষ্টা করত,সেদিন তাই করতে গিয়েছিল তাই সবাই মিলে তাকে ধরে রেখেছিলেন।

No comments:

Post a comment